যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে কয়েক মিনিটের জন্য দূর থেকে মরদেহ দুটি দেখানো হয় তাকে।
কারা সূত্র জানায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে পরিবারের ছয়জন সদস্যকে কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাদ্দামকে স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হলেও প্যারোলে মুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।
এর আগে শুক্রবার বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘর থেকে তার নয় মাস বয়সী শিশু নাজিমের নিথর দেহও পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, মানসিক হতাশা থেকে মা প্রথমে শিশুসন্তানকে হত্যা করে পরে নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাদ্দাম রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি থাকলেও তিনি কোনো হত্যা মামলার আসামি নন। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় তাকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তির অনুমতি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এখতিয়ার। তবে কোনো বন্দির নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু হলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারাফটকে মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের একাংশ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ন্যাশনিক্স/এলকে
