বাগেরহাটে ছাত্রলীগের এক নেতার প্যারোলে মুক্তি না মিললেও শেষবারের মতো স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে যশোর কারাগারের গেটে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একমাত্র সন্তান নাজিম হোসেনের জন্ম হয় নয় মাস আগে। তবে সন্তান জন্মের আগেই রাজনৈতিক ঘটনার পর সাদ্দাম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। ফলে বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয় শিশুটি।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামীকে মিথ্যা মামলায় কারাগার থেকে মুক্ত করতে না পারার হতাশা ও মানসিক চাপ থেকে স্বর্ণালী চরম সিদ্ধান্তে পৌঁছান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রথমে তার শিশুসন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন এবং পরে নিজেও আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার বিকেলে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেষবারের মতো বাবাকে দেখানোর জন্য মা ও সন্তানের মরদেহ যশোর কারাগারের গেটে নেওয়া হয়। তবে সময় স্বল্পতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ পাননি সাদ্দাম।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের একাংশ মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন। তারা বলছেন, এটি আত্মহত্যা না পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় একটি হত্যা মামলা ও একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
