খামেনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ‘অ্যাকশন’ দাবি করলেন ইরানের নোবেলজয়ী শিরিন এবাদি

অবশ্যই পরুন

শান্তিতে নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী Shirin Ebadi ইরানে চলমান দমন-পীড়ন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে এক ধরনের ‘পরিকল্পিত নীরবতা’র মধ্যে ডুবে আছে।

এবাদির ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেওয়া, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয় দেখানো এবং গণমাধ্যম কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ হলো—রাষ্ট্র গোপনে সহিংসতা চালাতে চাইছে এবং পরবর্তীতে সেই ঘটনার সব প্রমাণ মুছে ফেলতে চাচ্ছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর তথ্যের বরাতে জানান, মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, নিহতদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং নিরাপত্তা ও সরকারি মহলের ভেতরের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা একটি ভয়াবহ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ ও ৯ জানুয়ারি—এই টানা দুই রাতে অন্তত ১২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিরিন এবাদি বলেন, বিষয়টি শুধু মৃত্যুর সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যে ধরনের সহিংসতা প্রয়োগ করা হয়েছে, তা আরও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। তার মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও দাবি করেন, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে সরাসরি গুলি চালানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে বাস্তব চিত্র বাইরের দুনিয়ায় পৌঁছাতে না পারে।

এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালু করা, একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত গঠন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন শিরিন এবাদি।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ