জুলাইয়ের মামলা কি ভুয়া ছিল? শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন অব্যাহতির সুপারিশ

অবশ্যই পরুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ধানমন্ডিতে সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্তে আহতদের খুঁজে না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে এই সুপারিশ করা হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ ‘তথ্যগত ভুল’ উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার আসামিদের তালিকায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি রয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন সাহেদ আলী। ওই ঘটনায় সাহেদ আলীসহ ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট নয়জন আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে ৩ সেপ্টেম্বর সাহেদের কথিত ভাই শরীফ ধানমন্ডি থানায় হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত চলাকালে পিবিআই জানায়, আহত সাহেদ আলীসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। সীমান্ত স্কয়ার, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আশপাশের হাসপাতালগুলোতে চিঠি পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পাওয়া যায়নি। বাদীকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে ভুক্তভোগীকে হাজির করার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা মানেননি।

এছাড়া বাদীর দেওয়া ঠিকানা যাচাই করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পারেন, হাজারীবাগে উল্লেখ করা ভাড়া বাসায় শরীফ নামের কাউকে কেউ চেনে না। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে তার প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম হিসেবে শনাক্ত করা হলেও স্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। বাদীর মোবাইল নম্বরও অধিকাংশ সময় বন্ধ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে হাজির না করা, চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র না দেওয়া এবং এজাহারেও চিকিৎসার তথ্য উল্লেখ না থাকায় মামলার অভিযোগ প্রমাণের উপাদান পাওয়া যায়নি। এসব কারণে শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ