শেখ হাসিনার শাসনে নিরাপত্তা, ইউনুস সরকারের আমলে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী

অবশ্যই পরুন

গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া–টুঙ্গিপাড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশ্যে শঙ্কা জানিয়ে নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি জনসম্মুখে নিজের জামা খুলে নিচে পরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট প্রদর্শন করেন।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ কণ্ঠে এস এম জিলানী বলেন,

“জানি না কখন কী হয়। আমাদের জীবনের হুমকি আছে—এটা কঠোর বাস্তব। দেখুন, আমি আজ বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে আপনাদের সামনে এসেছি। মৃত্যুঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও শুধু আপনাদের পাশে থাকার জন্যই এই ঝুঁকি নিচ্ছি।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, বিএনপি প্রার্থীর ভাষ্যমতে, বিগত ১৭ বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে কখনো তাকে এভাবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়নি। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি নিজেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীর প্রকাশ্যে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট প্রদর্শন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই ইঙ্গিত দেয়। ইউনুস সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক সহিংসতা, খুন, হুমকি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য খাতেও গভীর অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শিল্পকারখানা বন্ধ, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থান সংকটে পড়ে দেশ কার্যত এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। নিরাপত্তার অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষ যেমন আতঙ্কিত, তেমনি রাজনৈতিক কর্মীরাও প্রকাশ্যে জীবনহানির আশঙ্কা করছেন।

এস এম জিলানীর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা ঘটনাটি তাই কেবল একটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইস্যু নয়—বরং ইউনুস সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অধঃপতনের প্রতীকী চিত্র হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—

যদি একজন জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীই নিজেকে নিরাপদ মনে না করেন, তবে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মুখে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন দেশের মানুষের দৃষ্টি ইউনুস সরকারের দিকে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ