নাহিদ সারজিস হাসনাত ও জারাকে দেওয়া হলো গানম্যান

অবশ্যই পরুন

জুলাই আগস্ট আন্দোলনে সক্রিয় থাকা সমন্বয়ক, সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা কয়েকজনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের আত্মরক্ষার প্রয়োজনে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
এ ছাড়া আরও কয়েকজন রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী গানম্যান এবং অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান এবং বাসভবনে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা হয়েছে। একই ধরনের নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখ।
এদিকে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকেও বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে। তার এক বোনকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান দেওয়া হবে। পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা গানম্যান বা অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে ১৫ জন রাজনীতিবিদের আবেদন এসেছে। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রায় ২৫ জন সরকারি কর্মকর্তাও অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানান, যাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেশি তাদের একজন করে অস্ত্রধারী রক্ষী দেওয়া হয়েছে। যারা তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে আছেন তাদের চলাফেরা ও নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে যাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে সবার জন্য গানম্যান দেওয়া সম্ভব নয়। অনেক আবেদনকারী ছাত্র হওয়ায় বা গণপরিবহনে চলাচল করায় গানম্যান সরবরাহে বাস্তব সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে স্থায়ী গানম্যান দেওয়া হয়নি। ডিএমপি ও পুলিশের বিশেষ শাখা অস্থায়ীভাবে কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা পড়লে স্থায়ী নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে যারা নিরাপত্তা চেয়েছেন তাদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সবাই ঝুঁকিতে নেই। যাদের ঝুঁকি রয়েছে বলে মূল্যায়নে এসেছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন শীর্ষ এনসিপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ