সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মাসুদ কামাল জানিয়েছেন, লালদিয়া ও পানগাঁও বন্দরের পরিচালনার ক্ষেত্রে যে দুইটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেই চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে দেশীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই এবং ড. ইউনূস ও আশিক চৌধুরী ছাড়া অন্য কেউ কী জানে— সেটি সন্দেহজনক। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী এই চুক্তিগুলো একটি অনির্বাচিত সরকারের অধীনে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এগুলো লাভজনক কি না তা প্রমাণিত হয়নি।
মাসুদ কামাল উল্লেখ করেন, যারা বন্দর ও টার্মিনাল বিষয়ে বাস্তবজ্ঞান রাখেন তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পর্যালোচনা চালানো হয়েছে বলে কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন: এমন দীর্ঘমেয়াদি অনুচ্ছেদ কি সংবিধানগত বা নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য, যখন সরকারটি মঞ্চে অনির্বাচিত এবং তার মেয়াদও সীমিত?
বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন, দুইটি চুক্তি প্রকাশিত হওয়ার ঠিক আগের দিকের রাজনৈতিক ঘটনাকে এর সঙ্গে সম্পর্কিত করে সমালোচনা করেছেন—যাতে সরকারি চোখে দেখাচ্ছে যে বড় সিদ্ধান্তগুলো অন্য প্রধান ইস্যুর মাঝে চাপে নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালটি ৩০ বছরের জন্য ডেনমার্কভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানকে—and পানগাঁও টার্মিনালটি ২২ বছরের জন্য সুইস প্রতিষ্ঠানকে—বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে; কিন্তু এসব চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলির প্রতি জনসাধারণের অবগতির কোনো প্রমাণ নেই।
মাসুদ কামাল সরকারের বিদেশ নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ভারত-সম্পর্কিত কিছু চুক্তি ও সম্পর্কের ব্যাপারে নানা সমালোচনা ও উদ্বেগ ছিল; বর্তমানেও কিছু নীতি ও চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নবিদ্ধতা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে জাতীয় মনযোগ ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে এসব বিষয় জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হবে যাতে জনগণ বুঝতে পারে চুক্তিগুলো দেশের স্বার্থে নাকি নয়।
ন্যাশনিক্স/এজে
