গত কয়েকদিনে সরকারিভাবে পরিচালিত একটি পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যের তহবিল ব্যবহার করে প্রায় ৯ হাজার তরুণ-তরুণীকে ১৫ দিনের আবাসিক ‘আত্মরক্ষামূলক মৌলিক প্রশিক্ষণ’-এ নেওয়া হবে। প্রশিক্ষণটি চলতি মাসেই দেশের সাতটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু পরিকল্পনাটির পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচালনা নিয়ে শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে, কিছু মহল মনে করছে এই কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক একজন স্বনামধন্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত উদ্যোগের সঙ্গে। সমালোচকদের প্রশ্ন রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যবহার করে বিস্তৃত সংখ্যক যুবক-যুবতীকে প্যারামিলিটারী ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়ার যৌক্তিকতা এবং তার প্রয়োগদিকটিকে কাদের অধীনে রাখা হবে, তা স্পষ্ট নয়।
প্রকল্পের সরকারি বর্ণনায় এটি ‘আত্মরক্ষামূলক মৌলিক প্রশিক্ষণ’ বলে উল্লেখ থাকলেও প্রকৃত কাঠামো, তহবিলের উৎস এবং প্রশিক্ষণের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি প্রশিক্ষণটি কোনো জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালার আওতায় না আসে এবং পার্লামেন্ট বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হয়, তাহলে তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক শক্তি গঠনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা যাবে।
নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণের অভিজ্ঞরা সুপারিশ করেন, এমন প্রশিক্ষণপ্রকল্প প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত কৌশল ও নীতির মধ্যে রেখে, সংসদীয় ও মন্ত্রণালয়সম্মত অনুমোদন স্থল করে করা উচিত। কারণ এই ধরনের কর্মসূচি জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কিত স্পর্শকাতর বিষয় জড়ায় অনির্দিষ্টভাবে প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে বিভিন্নভাবে ব্যবহারযোগ্য বা অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রকল্পের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো গণপ্রতিরক্ষা বাস্তবায়ন ও ভূগোলভিত্তিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতি বৃদ্ধি করা; পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ভবিষ্যতে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে কাজ করতে পারবে। তথাপি জনসাধারণের অগোচরে বৃহৎ আকারে এমন আয়োজন হলে দায়বদ্ধতা, নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান কেমন হবে এমন প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নিচ্ছে।
এখন প্রশ্নটি হাতেনাতে: কোনো নিরাপত্তা সংকট কি এমন একগরিষ্ঠ পদক্ষেপকে জাস্টিফাই করে? আর একটি মন্ত্রণালয় বা একেকজন উপদেষ্টার উদ্যোগে জননেরিত তহবিল ব্যবহার করে কি এমন স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই প্রকল্পটির বৈধতা ও সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হবে।
