শায়খ আহমদুল্লাহর মিথ্যাচার

অবশ্যই পরুন

শায়খ আহমাদুল্লাহ নামে এক মিথ্যাবাদী ধর্মব্যবসায়ী দাবী করেছেন, বিগত ১৬ বছর এই দেশে ইসলামের কথা বলার মতো কঠিন কাজ দ্বিতীয়টি ছিলো না।

প্রথমত, আওয়ামী লীগ ১৬ বছর ক্ষমতায় ছিলো না, ১৫ বছর ৭ মাস ছিলো। দ্বিতীয়ত, আহমাদুল্লাহ আওয়ামী লীগের ১৫ বছর ৭ মাসের মধ্যে ১০ বছরই ছিলো সৌদি আরবে। আরবি ভাষায় বিশেষ দক্ষতার কারণে ২০০৯ সালে পশ্চিম দাম্মাম ইসলামিক দাওয়াহ সেন্টারে কাজ করার সুযোগ পেয়ে সৌদি আরব চলে যায় এবং সেখানে প্রীচার ও ট্রান্সলেটর হিসেবে কাজ করেন।

সৌদি আরবে বসেই তিনি একটি ফাউন্ডেশন তৈরির পরিকল্পনা করেন এবং ২০১৮ সালে দেশে ফিরে এসে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। যা একটি ধর্মীয় দাতব্য সংস্থা এবং এর নীতিবাক্য ‘উম্মাহর স্বার্থে, সুন্নাহর সাথে’। নাম এবং নীতিবাক্যের মধ্যেই প্রকাশ পাচ্ছে, এটি একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন। তা সত্ত্বেও আওয়ামী সরকার আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে নিবন্ধন দেয়। যার নিবন্ধন নং এস-১৩১১১/২০১৯। অর্থাৎ ধর্মীয় মোড়ক দেখেও আওয়ামী লীগ সরকার নিবন্ধন দিতে কার্পণ্য করে নি।

আহমদুল্লাহ ২০১৮ সালে দেশে ফেরার পর থেকে নির্বিঘ্নে তার কাজ করেছেন। দেশের বেশিরভাগ টেলিভিশন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। ওয়াজ মাহফিলসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে লেকচার দিয়েছেন। কোথাও বাঁধাগ্রস্ত হন নি।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে আহমদুল্লাহর লেখা দুটি বই ‘রাসুলুল্লাহ-এর সকাল সন্ধ্যার দু’আ ও যিকর’ ও ‘পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পরবর্তী দু’আ ও যিকর’ চার লক্ষাধিক কপি বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন থেকেও এসব বই বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও তাঁর সংকলিত ও সম্পাদিত ‘রমাদান প্ল্যানার’ দুই লক্ষাধিক কপি বিক্রি হয়েছে। একুশে বইমেলায়ও এসব বই পাওয়া যেতো। বিগত ১৬ বছর যদি ইসলামের কথা বলা এতোই কঠিন হতো তাহলে আহমাদুল্লাহর বই কিভাবে এতো কপি বিক্রি হলো?

আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি শুধু দেশেই ইসলামি আলোচনা করেন নি, সমানতালে করেছেন বিদেশেও। তিনি জাপান, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কাতার, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, কেনিয়া, হংকং, উগান্ডা ও অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন নির্বিঘ্নে। কোনোদিন ইমিগ্রেশনের সমস্যা বা অন্য কোনো সমস্যার মুখোমুখি হন নি।

এ তো গেলো আহমাদুল্লাহর নিজের কথা, এবার আসি তার প্রতিষ্ঠিত আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রসঙ্গে। এই ফাউন্ডেশন রীতিমতো ফেসবুকে বুস্ট করে বই-পুস্তক বিতরণ, কর্মশালা আয়োজন, দাওয়াহ ডিপ্লোমা ও ফ্যামিলি কাউন্সেলিংয়ের মতো কার্যক্রম চালিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের নাকের ডগায় বসে স্মল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কোর্স, দি আর্ট অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং কোর্স, স্মার্ট টেইলারিং অ্যান্ড ফ্যাশন ডিজাইন কোর্স, দি আর্ট অব ক্রিয়েশন কোর্স, ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিডারশিপ ফাউন্ডেশন কোর্স, জুতা শিল্পে উদ্যোক্তা তৈরি কোর্স, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, শেফ অ্যান্ড কিচেন ম্যানেজমেন্ট কোর্স পরিচালনা করেছে। ঢাকার আফতাবনগরে নিজস্ব কার্যালয়ে কর্মযজ্ঞ চালিয়েছে। কোনোদিন কোথাও বাঁধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলে শোনা যায় নি।

আহমাদুল্লাহর আজকের যতো নাম-যশ-খ্যাতি তার সবই হয়েছে আওয়ামী লীগের শাসনামলে। আওয়ামী লীগ সরকারের আনুকূল্যে তিনি তারকাখ্যাতি পেয়েছেন, ফুলে ফেঁপে উঠেছে তার ফাউন্ডেশন। নিজের ফাউন্ডেশনের ডোনেশন বাড়াতে বিদ্যানন্দের পেছনে লেগেছে, যখন যেখানে মন চেয়েছে মাহফিল করেছেন, কেউ বাঁধা দেয় নি। অথচ আজ বলে, বিগত ১৬ বছর নাকি এই দেশে ইসলামের কথা বলার মতো কঠিন কাজ দ্বিতীয়টি ছিলো না!

এদের কাজকর্ম দেখে একটি কথাই মাথায় আসে, ধর্মব্যবসার পূর্বশর্ত কি ধর্ম নিয়ে মিথ্যাচার?

বি. দ্র. এখানকার সকল তথ্য আহমাদুল্লাহর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া। দুটি ওয়েবসাইট তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও বাঁধা পাওয়ার মতো কোনো তথ্য পাই নি।

লেখকঃ আরিফ ইসতিয়াক রাহুল।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ