এক বছরে ২৫৮ পোশাক কারখানা বন্ধ, বিপাকে রপ্তানি খাত

অবশ্যই পরুন

বাংলাদেশে গত এক বছরে ২৫৮টি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।

মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শ্রমিক অসন্তোষ, উৎপাদন ব্যাঘাত এবং নীতিগত অস্থিরতা মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের চাপে আছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত বছরের আগস্ট থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেছে। এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মাত্র ২০ জন শ্রমিক নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দিলে পোশাক শিল্পে আবারও অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। এতে বিনিয়োগ ও রফতানি আয় দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না করেই আগামী বছর আমরা এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হই, তাহলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে দেশ।”

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা না বাড়িয়ে ৪১ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এভাবে মাশুল বাড়ালে রপ্তানি খরচ অনেক বেড়ে যাবে এবং বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ কার্যকর হলে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং এতে শিল্পখাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যৎ তহবিল ও সার্বজনীন পেনশন— দুটি স্কিম একসাথে থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়বে এবং উদ্যোক্তাদের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা বলেন, শিল্পবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে হলে সরকারের উচিত হবে আগে শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করা। তাদের মতে, দেশীয় উদ্যোক্তাদের মতামত উপেক্ষা করলে রফতানি খাতের ক্ষতির দায় নিতে হবে সরকারকেই।

ন্যাশনিক্স/এজে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ