সবাই সংঘাতের অপেক্ষায়, সামনে কঠিন সময় আসছে: তথ্য উপদেষ্টা

অবশ্যই পরুন

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাতের অপেক্ষায় আছে। তাঁর মতে, প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘাত হয়নি।

শনিবার সকালে সেগুনবাগিচার বিএমএ ভবনে ‘মাজার সংস্কৃতি: সহিংসতা, সংকট ও ভবিষ্যৎ ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুফি ধারা নিয়ে গবেষণাধর্মী সংগঠন ‘মাকাম’।

মাহফুজ আলম বলেন, “সব পক্ষই এখন সংঘাতের দিকে তাকিয়ে আছে। কয়েক মাসের মধ্যেই এর চিত্র দেখা যেতে পারে। যদি এর সঙ্গে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ যুক্ত হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সম্প্রতি কিছু ‘দরবারের’ সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে বলে খবর শুনেছেন। এসব দরবারে বলা হচ্ছে, বর্তমান সরকার ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলছে বা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে। উপদেষ্টার ভাষায়, “এটা নতুন ইস্যু নয়, বহু বছর ধরে এমনটা চলে আসছে। সরকার পরিবর্তন হলেই মসজিদ কমিটি বা ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদ বদলে যায়।”

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ হয়তো কিছুটা কমেছে, কিন্তু সমাজে তা রয়ে গেছে। ইসলামের বিভিন্ন ধারার মধ্যে সংলাপ না হলে রাষ্ট্র আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাবে।”

তাঁর মতে, দেশের মুসলমানদের মধ্যে নানা তরিকা ও মতভেদ আছে, কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা কখনো সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেননি। বরং বিভিন্ন ধারাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন।

তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে সুফি ধারার মানুষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়েছিল—তারা ভাবত আওয়ামী লীগ তাদের সুরক্ষা দেবে, আর তারা ভোট দেবে। এই ব্যবস্থার মধ্যেই ধর্মীয় রাজনীতি আটকে গেছে। কওমি ধারার অনুসারীরাও এর বাইরে নয়।”

বিভিন্ন মুসলিম দেশের দূতাবাসগুলোর প্রভাব নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর দাবি, “কিছু বিদেশি মিশন চায় মাজার সংস্কৃতি বিলুপ্ত হোক। এ বিষয়টি রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে জটিল।”

তিনি বলেন, “ধর্মীয় সংঘাতের ভয় না পেয়ে রাষ্ট্রীয় ও নীতিগতভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। না হলে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হবে।”

উপদেষ্টার ভাষায়, “এক বছরে কিছু না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। কিন্তু প্রতিশোধমূলক মনোভাব থেকে কাজ করলে পরিস্থিতি ভালো হবে না।”

মাজারে সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গে তিনি জানান, হামলাকারীদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সরকার মাজার সংস্কারের পরিকল্পনা নিচ্ছে।

হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মামলা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই সংস্কৃতি যদি টিকে থাকে, তাহলে এক দলের ইসলাম আরেক দলের স্থাপনা ধ্বংস করবে। এটা থামাতেই হবে।”

সংলাপ শেষে একজন সাংবাদিক উপদেষ্টার পদত্যাগ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে যান, কারণ সেটি আলোচনার মূল বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না।

ন্যাশনিক্স/এজে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ