রাজধানীর বিভিন্ন রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শোরুমে ছয় মাস ধরে এক ভয়াবহ চাঁদাবাজ চক্রের হুমকি ও হামলার ঘটনা ঘটছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৪০ জন গাড়ি ব্যবসায়ীকে বিদেশ থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দিলে তাদের পরিবারের সদস্যদের অপহরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চক্রটি শোরুমের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে এবং ফোনে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রধান টার্গেটের মধ্যে রয়েছে প্রগতি সরণি, বারিধারা, বসুন্ধরা ও আশপাশের এলাকায় থাকা শোরুমগুলো।
গত ১৩ অক্টোবর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক গাড়ি ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে ১০ লাখ টাকায় ছাড়ের প্রস্তাব আসে। তৎপরতায় ব্যবসায়ী নগদ ১ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং একটি গাড়ি দিতে বাধ্য হন। পুলিশ যশোর থেকে গাড়িটি উদ্ধার করেছে। ভাটারা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত নিয়াজুর রহমান ও তার স্ত্রী যশোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও দুটি চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে।
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক বলেন, “এত বছর গাড়ি ব্যবসা করছি, কখনও এমন ধারাবাহিক হুমকির মুখোমুখি হয়নি। শুরুতে মনে হয়েছিলো ছেলেমেয়েরা দুষ্টুমি করছে, পরে শোরুমের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতেই বুঝলাম এটা সুনির্দিষ্ট চক্রের কাজ।”
প্রায় একই সময়ে বারিধারার বেগ অটোর সামনে ১৫ অক্টোবর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এখন পর্যন্ত অন্তত ১২টি শোরুমে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে জড়িত কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হচ্ছে এবং কিছু ঘটনায় চাঁদাবাজরা পরিচয় হিসেবে সাবেক রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছে।
চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় পল্লবী, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরেও ভুক্তভোগীদের কথা অনুযায়ী হামলা হয়েছে। পল্লবীর আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, রূপনগরের তৈরি পোশাক কারখানা ও বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনেও ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। অনেক ঘটনায় অভিযুক্তরা বিদেশে অবস্থান করছে।
ডিএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট বলেছে, হুমকি ও হামলার জন্য ব্যবহৃত ফোন নম্বর এবং মোটরসাইকেলের নম্বর ভুয়া। থানা পুলিশের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তদন্তে কিছু বাধা আছে। তবে পুলিশ বলেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চালানো হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা এখনও আতঙ্কে রয়েছেন। তবে তারা মানববন্ধন, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এই চক্রের মোকাবিলা করছেন। পুলিশও জানিয়েছে, নতুন চক্রের সদস্যদের শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে এবং ভবিষ্যতে আরও অভিযান চালানো হবে।
ন্যাশনিক্স/এজে
