ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি ফাতিমা তাসনিম জুমা অনলাইনে ভয়াবহ হয়রানির শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি শুধু কটূ মন্তব্য বা সাইবার বুলিংয়ের মুখে পড়েননি, বরং পেয়েছেন গণধর্ষণের হুমকি এবং নিজের নামে তৈরি করা এআই জেনারেটেড অশ্লীল ছবি ও ভিডিওর আঘাতও।
এক সাক্ষাৎকারে জুমা বলেন, “আমার ডিপফেক বানানো হয়েছে। সহকর্মীদের সঙ্গে মিলিয়েও আমার অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে। যারা এআই সম্পর্কে জানে না, তাদের কাছে বোঝানো খুব কঠিন যে এসব ভুয়া।”
ডিজিটাল গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জুমাকে নিয়ে করা ১০০টি অনলাইন পোস্টের মধ্যে ১৫টি পোস্টে ছিল নানামাত্রিক নেতিবাচক মন্তব্য। এসব মন্তব্যে তার নারী পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবনের ওপর সরাসরি আক্রমণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুমাকে নিয়ে করা আক্রমণগুলোর মধ্যে ৬৬ শতাংশ মন্তব্য লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়নির্ভর অপমান। একটি পোস্টে তাঁকে নিয়ে লেখা হয় “পতিতালয়ের নর্তকী সাদিক কায়েম ফরহাদের রাতের ডিনার।”
এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের নিচে তাঁকে উদ্দেশ্য করে “শিবিরের দাসী”, “জাশির যৌন দাসী”, “মিয়া খলিফার শিবির ভার্সন” ইত্যাদি অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়।
জুমা জানান, অনলাইন হামলার প্রভাব তার ব্যক্তিগত জীবনেও গভীরভাবে পড়েছে।
“আমাকে যদি কেউ ভার্চুয়ালি গণধর্ষণের হুমকি দেয় বা আমার পরিবারকে ভয় দেখায় এটা কি আমার জীবনে প্রভাব ফেলে না? আমি অনিরাপদ বোধ করি।”
এই ভয়ের কারণে তাঁর বাবা-মা নির্বাচনের আগে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে মেয়ের পাশে থাকতে বাধ্য হন।
জুমা মনে করেন, এটি কোনো একক ঘটনা নয়, বরং একটি সম্মিলিত রাজনৈতিক আক্রমণ। তাঁর ভাষায় “আমাকে আক্রমণ করার সময় দেখা যায়, ভিন্ন ভিন্ন প্যানেলের সবাই একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। কে কী বলবে, সেটা তারা যেন আগে থেকেই ঠিক করে রাখে।”
তবে এই হয়রানির বিরুদ্ধে তিনি কোনো প্রশাসনিক বা আইনি সুরক্ষা পাননি বলেও অভিযোগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে “অধিক্ষেত্রের বাইরে” বলে দায় এড়িয়ে গেছে, আর থানায় করা সাধারণ ডায়েরির কোনো অগ্রগতি সম্পর্কেও তাঁকে জানানো হয়নি।
ফেসবুক ও মেটার কাছেও জুমা অভিযোগ করেছিলেন বিকৃত ছবি সরানোর জন্য, কিন্তু তাতেও সফলতা পাননি।
তিনি বলেন: “আমি রিপোর্ট করেও কোনো ফল পাইনি। ছবিগুলো এখনও ভাসছে। এটা আমার জন্য ভয়ংকর মানসিক ট্রমা তৈরি করেছে।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনকে একত্রিত হয়ে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানালেও কেউ সাড়া দেয়নি।
“এই গালাগাল, এই অপমান অনেকের রাজনীতির পুঁজি। তাই কেউ এগিয়ে আসে না,” বলেন জুমা।
