নদীতে ভাসছে হত্যার প্রমাণ, চার জেলায় মিলেছে ৭৩ মৃতদেহ

অবশ্যই পরুন

নদী নয়, যেন গোপন কবরস্থান ২২ মাসে মিলেছে ৭৩ লাশ

খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত এক বছরের ব্যবধানে এ অঞ্চলের নদ-নদীতে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, যার অধিকাংশই হত্যাকাণ্ডজনিত বলে জানিয়েছে নৌপুলিশ।

খুলনা নৌপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মাসে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন নদ-নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭৩টিরও বেশি মরদেহ। এর মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় অজ্ঞাত। শুধু ২০২৪ সালে উদ্ধার করা হয় ৩৪টি মরদেহ, আর চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই (অক্টোবর পর্যন্ত) উদ্ধার হয়েছে ৩৯টি, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

নৌপুলিশের তথ্যমতে, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে মোট ৭০ জনের মৃতদেহ। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুধু খুলনা জেলায় অক্টোবরের মধ্যভাগ পর্যন্ত আরও অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ অক্টোবর দাকোপের বাজুয়ার চুনকুড়ি নদী থেকে আশিষ সরকারের বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া যায় নিখোঁজের তিন দিন পর। একই দিনে পাইকগাছার সোনাদানা ইউনিয়নের শিবসা নদীর চর থেকে উদ্ধার করা হয় ইকরাম হোসেন নামের এক যুবকের লাশ। এর আগের দিন জিরবুনিয়া খাল থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, “খুলনাসহ আশপাশের জেলার নদ-নদীতে এখন প্রায় প্রতিদিনই লাশ ভেসে উঠছে। ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের তৎপরতা ও নজরদারি অনেকটা শিথিল হয়েছে, র‌্যাবও আগের মতো সক্রিয় নেই। এতে সন্ত্রাসীরা ফের এলাকায় সক্রিয় হচ্ছে, তারাই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “অধিকাংশ মরদেহই অশনাক্ত থেকে যায়। শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি। মরদেহ শনাক্ত করা গেলে হত্যাকারীদের খুঁজে পাওয়া সহজ হতো।”

খুলনা নৌপুলিশ সুপার ড. মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, “নদীতে যে মৃতদেহগুলো পাই, তার মধ্যে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা ও হত্যাকাণ্ড তিন ধরনের ঘটনাই থাকে। তবে হত্যাজনিত মৃতদেহই বেশি।”

তিনি বলেন, “স্থলভাগে সংঘটিত হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে অনেক সময় মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব বা মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বেশি ঘটে।”

নৌপুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্ত করাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ। অর্ধগলিত অবস্থায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেসব ক্ষেত্রে নিখোঁজ জিডি থাকে, সেগুলোতে তদন্ত কিছুটা এগোয়।

তিনি আরও বলেন, “লোকবল সংকট ও সীমিত সম্পদের কারণে তদন্তে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি নদী ও স্থল উভয় জায়গাতেই নজরদারি বাড়াতে। তবে জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়লে তদন্ত আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।”

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ