রিশাদের ঘূর্ণিতে মিরপুরে বিজয়ের উৎসব, উড়ল বাংলাদেশ

অবশ্যই পরুন

মিরপুর যেন আজ রিশাদ হোসেনের রাজত্বে পরিণত হয়েছিল। একপাশে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা ধুঁকছেন, আর অন্যপাশে দাপটের সঙ্গে ইতিহাস লিখছেন এক তরুণ লেগ স্পিনার। ব্যাট হাতে ছোট্ট এক ঝড়ের পর বল হাতে ছড়ালেন তাণ্ডব এবং মিরপুরের মাঠে একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিলেন বিশাল জয়। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৭৪ রানের জয়ে এগিয়ে গেল টাইগাররা, আর সেই জয়ের পোস্টারে সবচেয়ে বড় ছবি এখন রিশাদের।

২০৭ রানের লক্ষ্যে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫১ রানের ওপেনিং জুটি গড়ে ফেলে, তখন মিরপুরের গ্যালারিতে কিছুটা উদ্বেগ। কিন্তু কে জানত, এই শান্ত আকাশেই আসবে রিশাদ-ঝড়? নিজের প্রথম ওভারেই অ্যাথানেজকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর একে একে সাজঘরের পথ দেখান কিং, কার্টি, রাদারফোর্ড, চেজ এবং সবশেষে সিলসকে। প্রতিপক্ষ ব্যাটিং লাইনআপ যেন ধসে পড়ে তার একের পর এক নিখুঁত লেগব্রেক আর গুগলিতে।

মাত্র ৯ ওভারে ৩৬ রানের খরচায় ৬ উইকেট। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো লেগ স্পিনারের সেরা বোলিং এখন রিশাদের দখলে। ক্যারিবীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৩ রানে। যেখানে শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো, সেখানে শেষটা দুঃস্বপ্নের রূপ নেয়।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসেও ধাক্কা ছিল শুরুতেই। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৮ রান, সাজঘরে দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার। কিন্তু চাপের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে যান তাওহীদ হৃদয় ও নতুন মুখ মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে কার্যকরী ৫১ রান, আর অভিষেক ম্যাচে অঙ্কন দেখিয়ে দিলেন ভবিষ্যতের আশার নাম হতে পারেন তিনিও ৪৬ রানের সংযোজন তার ব্যাটে।

ইনিংসের শেষদিকে রিশাদের আরেক অবদান১৩ বলে ২৬ রানের এক ছোট্ট ঝড়ো ইনিংস। সেই ইনিংসেই স্কোর পেরোয় ২০০, আর সেই রানই শেষমেশ প্রমাণ করে দেয় যথেষ্ট।

বল হাতে রিশাদ ছিলেন দুর্দান্ত, তবে তাকে সহায়তা করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান (২/১৬), তানভীর ইসলাম (১/৪৬) ও অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ (১ উইকেট)। পুরো বোলিং ইউনিট ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ, ছন্দে থাকা এবং আক্রমণাত্মক।

আজকের ম্যাচে শুধু জয় আসেনি, এসেছে আত্মবিশ্বাস। এসেছে নতুন দিনের আশার বার্তা। রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে ভর করে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিল স্পিনের দেশে আবারও জেগে উঠছে এক নতুন যোদ্ধা।

সিরিজে এখন ১-০ তে এগিয়ে টাইগাররা। সামনে রয়েছে আরও দুই ম্যাচ, তবে আজকের রূপকথা মিরপুরে রয়ে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ