চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন ও ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব আ জ ম নাছির উদ্দীনের জন্মদিন আজ ১৪ অক্টোবর। ১৯৫৭ সালের এই দিনে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তিনি চট্টগ্রামের জনপরিসরে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
জন্মদিনে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও কর্মময় পথচলা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শৈশব, শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবনের সূচনা
আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রামের এক পরিচিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা সৈয়দ মঈনুদ্দিন হোসাইন এবং মা ফাতেমা জোহরা বেগম। তিনি ১৯৭৩ সালে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে চট্টগ্রাম কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ে পড়াশোনা করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক জীবনের সূচনা। ধাপে ধাপে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে তিনি দলীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং নগর ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
নগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে উত্থান
ছাত্ররাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে উঠে আসা আ জ ম নাছির উদ্দীনের রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। ২০১৩ সালে তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। সাংগঠনিক রাজনীতিতে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাঁকে নগর রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
দলীয় কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক আলোচনায় তাঁর নাম দীর্ঘদিন ধরে উচ্চারিত হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন যেমন নানা অর্জনের সাক্ষী, তেমনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সমালোচনার মধ্য দিয়েও অগ্রসর হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব
আ জ ম নাছির উদ্দীনের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়া। ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি ২০১৫ সালের মে মাসে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।
মেয়র হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় নগর প্রশাসন, নাগরিক সেবা এবং চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। একটি বাণিজ্যিক ও বন্দরনগরীর বহুমাত্রিক সমস্যা মোকাবিলা করা যে কোনো নগর নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতায় তাঁর মেয়াদকাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ, নাগরিক সুবিধার সম্প্রসারণ এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার প্রশ্নে তাঁর সময়ের কর্মকাণ্ড ও সীমাবদ্ধতা মূল্যায়ন করা চট্টগ্রামের নগর উন্নয়নের ইতিহাস বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রীড়াঙ্গনেও সম্পৃক্ততা
রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও আ জ ম নাছির উদ্দীনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তাঁর ভূমিকা ছিল।
চট্টগ্রামে ক্রীড়া সংগঠন ও ক্রীড়া কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাঁকে রাজনীতির বাইরেও পরিচিতি দিয়েছে। ক্রীড়াঙ্গন একটি শহরের তরুণসমাজকে সংগঠিত করা, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর কর্মপরিধি নগর রাজনীতির বাইরেও বিস্তৃত হয়েছে।
নেতৃত্ব ও কর্মময় পথচলার মূল্যায়ন
আ জ ম নাছির উদ্দীনের জীবন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং জনপরিসরে দীর্ঘ উপস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ছাত্ররাজনীতি থেকে নগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব, সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব থেকে ক্রীড়া প্রশাসন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর পথচলা বিস্তৃত।
তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি একজন অভিজ্ঞ সংগঠক ও পরিচিত রাজনৈতিক নেতা। অন্যদিকে, জননেতা হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নে নগরবাসীর অভিজ্ঞতা, নাগরিক সেবার বাস্তব চিত্র এবং সমালোচনামূলক পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক সমাজে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয় তাঁর কাজ, জনসম্পৃক্ততা এবং মানুষের জীবনে সেই কাজের প্রভাবের মধ্য দিয়ে।
