আগামী ডিসেম্বর মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির কয়েকজন নেতার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। আমাদের সংবাদমাধ্যমের বিশেষ ও গোপনীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এনসিপির একাধিক নেতা ডিসেম্বরের আগেই দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিশেষ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে বিদেশে যাওয়ার বিভিন্ন পথ নিয়ে আলোচনা করছেন। তাদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যোগাযোগ এবং আবেদন করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় সক্রিয় করার ঘোষণা দেওয়ার পর এনসিপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের মধ্যে এই তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন এবং কর্মকাণ্ডে যেসব এনসিপি নেতা সক্রিয় ছিলেন, তাদের একটি অংশ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে সূত্রটি দাবি করছে।
বিশেষ সূত্র আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নেতাদের আশঙ্কা আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হলে এবং শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করলে ২০২৪ সালের ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে। সেই সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েই কয়েকজন নেতা আগেভাগে দেশের বাইরে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে সূত্রের দাবি।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের একটি অংশ ডিসেম্বরের আগেই বাংলাদেশ ত্যাগ করতে চায়। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিদেশে অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভিসা এবং দূতাবাস-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
শেখ হাসিনা এর আগে ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো ও আদালতের কার্যক্রম আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করার কথাও তিনি বলেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তার এই ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বলে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দাবি করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল-মিটিংয়ের খবরও সামনে এসেছে। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার ও মামলা হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এমন পরিস্থিতিতে এনসিপির কিছু নেতার সম্ভাব্য দেশত্যাগের খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ সূত্রের দাবি, ডিসেম্বর যত ঘনিয়ে আসবে, সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিদেশে যাওয়ার তৎপরতাও তত বাড়তে পারে।
