বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ হারিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।
ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পর সাংগঠনিকভাবে আম্মারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আম্মারের ‘সাথী’ পদ স্থগিত করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে না পারায় সেপ্টেম্বরে তাঁর সাথীপদ বাতিল করা হয়।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ছাত্রশিবিরের একটি চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগের পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তাঁর সাথীপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় সেপ্টেম্বরে পদটি বাতিল করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সভাপতি এবং বর্তমানে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সই করা এক চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে ‘পদ-বাণিজ্যের’ অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।
চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সংগঠনের নজরে আসে। পরে ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।
ছাত্রশিবিরের নথি অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে আম্মারের সাথীপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে সংগঠনটি দাবি করে এবং নেতাকর্মীদের তাঁর অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ছাত্রশিবিরের পূর্ণ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ‘সাথী’ একটি সাংগঠনিক ধাপ। এ ধাপ অতিক্রমের পর সদস্যপদ এবং সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে।
এদিকে ২০২৫ সালের ওই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি সামনে আসায় রাকসু নির্বাচনে আম্মারের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন তিনি। ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
তবে আম্মারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
