তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ কমেছে

অবশ্যই পরুন

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও দুর্বল সুশাসনের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভাব্য মাত্রার তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম ছিল বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষকরা।


বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অর্থনীতির স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী বলয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে।


২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় তারেক রহমান দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। সে সময় রাজধানীর বনানীতে বিএনপির কার্যালয় হিসেবে পরিচিত ‘হাওয়া ভবন’কে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের নানা অভিযোগও আলোচনায় আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও বিশ্লেষকরা হাওয়া ভবনকে সরকারের বাইরে একটি প্রভাবশালী ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।


বিশ্লেষকদের ভাষ্য, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ই ঘটায়নি; বরং বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি সেবা এবং উৎপাদনশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এর ফলে দেশের অর্থনীতি যে গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তা অর্জিত হয়নি।


তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০০১–২০০৬ সময়ে দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই শতাংশ কমে যায়। অর্থাৎ দুর্নীতির প্রভাবকে শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সমস্যা হিসেবে দেখলে এর অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি আড়ালে পড়ে যায়।


বিশ্লেষকদের দাবি, ওই সময়ের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অনানুষ্ঠানিক ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছিল, তার অর্থনৈতিক মূল্যও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাদের মতে, সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ হারানোর পেছনে তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ