অনেকে হয়তো ভাবছেন- “আমার তো মোটরসাইকেল নেই, ব্যক্তিগত গাড়িও নেই। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে আমার কী আসে যায়?”
এই ধারণাটি আসলে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ, আপনার নিজের গাড়ি বা মোটরসাইকেল না থাকলেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আপনাকে এড়িয়ে যাবে না; বরং নানাভাবে তার ব্যয়ভার আপনাকেই বহন করতে হবে।
কীভাবে?
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে প্রথমেই এর প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে। বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যানসহ বিভিন্ন পরিবহনের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে বাড়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ভাড়া। আর সেই অতিরিক্ত ভাড়ার অর্থ শেষ পর্যন্ত দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই।
অর্থাৎ, আপনার নিজের কোনো গাড়ি না থাকলেও তেলের মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশ আপনার পকেট থেকেই বেরিয়ে যাচ্ছে।
এর প্রভাব শুধু যাতায়াতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আপনি যখন বাজারে যান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন কিংবা কোনো দোকান থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করেন, তখনও এর প্রভাব অনুভব করেন। কারণ, উৎপাদনস্থল থেকে বাজারে পণ্য পৌঁছাতে পরিবহন প্রয়োজন। জ্বালানির মূল্য বাড়লে সেই পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। আর বাড়তি পরিবহন ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভোক্তার ওপরই বর্তায়।
ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া মানে শুধু গাড়ির মালিকের ব্যয় বাড়া নয়; এর অভিঘাত ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পরিবহন, পণ্য পরিবহন, বাজারদর এবং সর্বোপরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ে।
তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত নয়- “আমার গাড়ি আছে কি না?”
প্রশ্ন হওয়া উচিত- “জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আমার দৈনন্দিন জীবনে কতটা পড়ছে?”
বাস্তবতা হলো, ব্যক্তিগত গাড়ি থাকুক বা না থাকুক, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক বোঝা কোনো না কোনো পথে সাধারণ মানুষের ওপরই এসে পড়ে। আপনার গাড়ি নেই তবুও আপনি সেই বাড়তি ব্যয়ের অংশীদার। আপনার পকেট থেকেই তার মূল্য পরিশোধ হচ্ছে কখনো বাড়তি ভাড়ার মাধ্যমে, কখনো বাড়তি পণ্যমূল্যের মাধ্যমে, আবার কখনো সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে।
দেশবাসীকে বলছি, এই অথর্ব ভোটারবিহীন পরাধীন সরকার, বিদেশী পুতুল সরকার, গদি টিকিয়ে আমার-আপনার পকেট ফাঁকা করে দিবে। চুষে খাবে। এই সরকারের আমার-আপনার জীবনমান ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিনতর করে দিবে। জনমনে স্বস্তি দিতে ব্যর্থ এ সরকার এবং অন্ধকার সমুদ্রের মাঝপথে রেখেই ভাগবে। ভাল মন্দ মিলিয়েই মানুষ। সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই এদের মধ্য থেকে সবচেয়ে ভালভাবে দেশ চালাইছে। আসুন আমরা আওয়াজ তুলি- “আমরা আগেই ভাল ছিলাম, শেখ হাসিনার সময়ই ভাল ছিলাম।”
লেখক: মো: দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ
