ইউনূস ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩৮টি কর মামলা, নথিতে ১,১১১ কোটি টাকার রাজস্বের হিসাব

অবশ্যই পরুন

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট ও রেফারেন্স মামলায় ১ হাজার ১১১ কোটি ৭ লাখ ৪৯ হাজার ১১২ টাকা রাজস্ব জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে একটি নথিতে। নথিতে মোট ৩৮টি মামলা ও সংশ্লিষ্ট করের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগতভাবে দায়ের করা তিনটি রেফারেন্স মামলায় মোট ১২ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার ৬০৮ টাকা রাজস্ব জড়িত ছিল। এসব মামলার মধ্যে ২০১১-২০১২ করবর্ষসহ বিভিন্ন করবর্ষের হিসাব রয়েছে।

এ ছাড়া গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে ছয়টি রিট মামলায় মোট ৬৭১ কোটি ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৩২২ টাকা রাজস্ব জড়িত থাকার তথ্য নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলা ২০১১-২০১২ থেকে ২০১৬-২০১৭ করবর্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি মামলা দায়েরের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় মোট ২০৯ কোটি ৯৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৮ টাকা রাজস্বের হিসাব রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ১৭ কোটি ৬২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৭৯ টাকা এবং অন্যটিতে ১৯২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫৯ টাকা রাজস্ব জড়িত থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রামীণ শক্তি, গ্রামীণ ট্রাস্ট, গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ উদ্যোগ, গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ সামগ্রী, গ্রামীণ ডানন ফুড, গ্রামীণ বাই টেক, গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস এবং গ্রামীণ ভেউলিয়া ওয়াটারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আয়কর-সংক্রান্ত মামলা ছিল।

এর মধ্যে গ্রামীণ শক্তির বিরুদ্ধে ছয়টি রেফারেন্স মামলায় ৪৭ কোটি ৮৫ লাখ ৭২ হাজার ৩০৮ টাকা রাজস্ব জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশনের মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও কয়েক কোটি টাকার রাজস্বের হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে এসব মামলার শুনানির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রামীণ কল্যাণের মামলাগুলোর শুনানি হাইকোর্টের ১২ নম্বর বেঞ্চে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা এবং গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের মামলাগুলো ১৩ নম্বর বেঞ্চে ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল শুনানির জন্য গ্রহণের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে কর-সংক্রান্ত মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং কর পরিশোধ না করার বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ