এক বছরেও দুর্নীতির প্রমাণ নেই, তদন্তও হয়নি, সংস্থার ওপর অনাস্থা জানিয়ে নিজেই পদ ছাড়লেন পুতুল

অবশ্যই পরুন

সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পদত্যাগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচার চলছে। অনেক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তিনি পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তবে বিষয়টি ছিল ভিন্ন। অভিযোগের মুখোমুখি হয়ে তিনি পালিয়ে যাননি; বরং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য নিজেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পুতুলের বিরুদ্ধে আলোচিত আর্থিক অনিয়মের অঙ্ক ছিল ৯০১ ডলার। একই সময়ে তার ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়। অভিযোগের বিষয়ে তিনি শুরু থেকেই স্বচ্ছ অবস্থান নিয়েছিলেন এবং আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছিলেন।

এখানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘দুর্নীতির কারণে পদত্যাগ’ দাবিটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। পুতুলের অবস্থান ছিল, অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক এবং প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। তার দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় পার হলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ দেওয়া হয়নি এবং তার অনুরোধ সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত আনুষ্ঠানিক তদন্তও হয়নি।

শেষ পর্যন্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি বা নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রকাশের অপেক্ষায় না থেকে তিনি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ তার পদত্যাগকে তার সমর্থকেরা দুর্নীতির অভিযোগ স্বীকার করে সরে দাঁড়ানো হিসেবে নয়, বরং অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়া এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ না পাওয়ার প্রতিবাদ হিসেবেই দেখছেন।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দুর্নীতির অভিযোগে পুতুল পদত্যাগ করেছেন’ এমন বক্তব্য প্রচারের আগে প্রশ্ন হওয়া উচিত, অভিযোগের প্রমাণ কোথায় এবং আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল কী? অভিযোগ ওঠা আর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ