সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পদত্যাগকে ‘দুর্নীতির অভিযোগের ফল’ হিসেবে প্রচার করে নানা পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পুরো ঘটনাটি না জেনে এমন দাবি করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুতুলের বিরুদ্ধে যে আর্থিক অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে, তার পরিমাণ মাত্র ৯০১ ডলার। অথচ একজন উচ্চপদস্থ আন্তর্জাতিক কর্মকর্তার বার্ষিক মূল বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পরিমাণ যেখানে বিপুল, সেখানে মাত্র ৯০১ ডলারের অভিযোগকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। অভিযোগের অঙ্ক ছোট বলেই সেটি গুরুত্বহীন এমন নয়; তবে অভিযোগ আর প্রমাণিত দুর্নীতি এক বিষয় নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুতুল শুরু থেকেই অভিযোগ এড়িয়ে যাননি। বরং তিনি নিজেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় যদি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগই পদত্যাগের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে সেই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল কোথায়? কী প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে?
ফেসবুকে ‘দুর্নীতির কারণে পদত্যাগ’ এমন সরল বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া সহজ। কিন্তু কোনো অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রয়োজন প্রমাণ ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল। তাই পুতুলের পদত্যাগকে সরাসরি দুর্নীতির স্বীকারোক্তি বা অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
