আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

অবশ্যই পরুন

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম এবং ওফাতের পুণ্য স্মৃতিময় দিন। প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে এই দিনে মানবজাতির হেদায়েতের আলো নিয়ে আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের একই দিনে তিনি ওফাত লাভ করেন।

সারাবিশ্বের মুসলমানরা দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তার আবির্ভাব এবং ইসলামের শান্তির বাণীর প্রচার বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পৃথিবীতে তার আগমন ছিল মানবজাতির জন্য আল্লাহর অপার অনুগ্রহ। তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করেন। তার শিক্ষা ও আদর্শে জাহেলি যুগের অবসান ঘটে।

মহানবী (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা নগরীর অভিজাত কুরাইশ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি নবুয়ত লাভ করেন। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর তিনি আল্লাহর বাণী প্রচারে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।

তার জীবনদর্শন মুসলমানদের নীতি-নৈতিকতা, জ্ঞান, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত করেছে। তার আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।

১২ রবিউল আউয়াল বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করবেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশে সাধারণ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, আলোচনাসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও মানবতার জন্য তার অবদান তুলে ধরা হবে।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ওয়াজ মাহফিল, কিরাত মাহফিল, হামদ-নাত মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া ইসলামী বইমেলা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী এবং সিরাত স্মরণিকা প্রকাশের মতো কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ