কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার ২০২০ সালের একটি পুরোনো ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি পুনরায় ভাইরাল হওয়ার পর বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টটি ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। পোস্টে তৎকালীন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের পাশাপাশি তার একটি বিকৃত ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
পোস্টে লেখা ছিল, “দেশমাতাকে কারাগারে রেখে শান্তিতে নোভেল পুরুস্কার পাওয়ার জন্য অহিংস রাজনীতি করতেছে বোরকা সচিব। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং সারাদেশের নেতা কর্মীরা তার কাছে অসহায়।”
পুরোনো ওই পোস্টটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবার ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বর্তমানে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন নেতার পুরোনো ওই বক্তব্য দলের মহাসচিবের প্রতি অসম্মানজনক এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে পুরোনো পোস্টটি নিয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করার দাবিও উঠেছে।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের পর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ‘আমার ফাঁসি চাই’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে ২০২০ সালের ভাইরাল পোস্টটি নিয়ে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার বর্তমান বক্তব্য বা ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশ বলছেন, পুরোনো পোস্টটি যে সময়েরই হোক, বর্তমানে তিনি দলের সংসদ সদস্য হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো পোস্ট পুনরায় ভাইরাল করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করছেন।
ফলে ২০২০ সালের ওই পোস্টকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত দলীয় পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ বা সাংগঠনিক প্রতিক্রিয়ার দিকে যায় কি না, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের।
