এ কেমন বাংলাদেশ আজ, বিবেকের কাছে আমরা কি হেরে যাচ্ছি?

অবশ্যই পরুন

এ কোন বাংলাদেশ!!!
 
প্রতিদিনের সংবাদপত্র, বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে যে সংবাদ ও মতামত পাই তাতে আমার কাছে অবাক লাগে আমরা কি কোন সভ্য দেশে বসবাস করছি? আমাদের তথাকথিত ন্যায়নীতি বোধ কি আমরা আমাদের সিন্দুকে ভরে রেখেছি?
প্রথমে আসি আমাদের তথাকথিত জুলাই/আগস্টের বিপ্লবীদের কথায়। এরা নাকি বিপ্লব করে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এরা কারা?
এদের মধ্যে অনেকের অতীত হচ্ছে তারা ছাত্রলীগের সদস্য ছিল। তাহলে কি এরা ধোঁকাবাজ নয়? কারন আপনি যেটা বিশ্বাস করেন না বা যাদের রাজনীতি আপনি ঘৃণা করেন তাদের সঙ্গে আপনি যদি থাকেন তাহলে মীর জাফরের সঙ্গে আপনার পার্থক্য কোথায়? খৃষ্টান ধর্মের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হচ্ছে “জুডাস”। জুডাস যীশু খৃষ্টের ১২ জন অনুসারী হয়ে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন পৃথিবীর অন্যতম ঘৃণিত ব্যক্তিদের অন্যতম। তাহলে এই বিপ্লবীদের মধ্যে যারা ছাত্রলীগের সদস্য ছিল এরা কি বাংলাদেশের ইতিহাসের “জুডাস” নয়?? পৃথিবীর ইতিহাসে বহু যুদ্ধ হয়েছে, সংঘাত হয়েছে, প্রতিবাদ হয়েছে, বিপ্লব হয়েছে। কিন্তু সব সংঘাতই হয়েছে প্রকাশ্যে। আর যারা পিছন থেকে ছুরি  মারে, যারা বন্ধুর বেশে শত্রুর পক্ষ নেয়, যারা শপথ নেয় আমি আপনার পাশে থাকব বিপদে আপদে, কিন্তু প্রয়োজনের সময় তার বিপরীত কাজ করে; তারা আর যাই হোক ইতিহাসের পাতায় কখনো নায়ক হতে পারবে না। তাদের অবশ্যই বেইমানের তালিকায় স্থান নিতে হবে। আমরাও অপেক্ষায় থাকলাম তারা কবে ইতিহাসের পাতায় যথাযথ স্থান নেবেন।
 
আরও একটা বিষয় খুবই অবাক লাগে! বাংলাদেশের মানুষের কি বিবেক, বুদ্ধি, বিবেচনায় জং ধরেছে? শেখ হাসিনাকে তার দেশ পরিচালনার জন্য দোষ দিতে পারেন। তার রাজনীতির দোষ দিতে পারেন। গত ১৫ বছরে তিনি যা যা ভুল করেছেন তার জন্য সমালোচনা করতে পারেন। আর এই কাজগুলি আমাদের রাজনীতিবিদেরা নিয়মিত করেছেন। বিএনপিসহ অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলগুলি নিয়মিত সমালোচনা করেছেন প্রকাশ্যে। এর মধ্যে যোগ হল কোটা বিরোধী আন্দোলন। ছাত্রদের সাথে রাজনৈতিক দলগুলিও যোগ দিয়ে তাকে এক দফায় রূপান্তরিত করে শেখ হাসিনাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করলেন। এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু ভেজাল লেগে গেল পোলাপানেরা গোপনে গিয়ে সামরিক ভাইদের সাথে হাত মিলিয়ে হাসিনাকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দাবি করা শুরু করল তারাই নায়ক। তারাই দেশ চালাবে। তরুনদের হাতেই নাকি দেশ নিরাপদ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলেন আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজের কিছু লোক যাদের সারা জিবিনের স্বপ্ন মাগনায় ক্ষমতার স্বাদ নেয়া। সাথে যোগ দিলেন বাংলাদেশের দারিদ্র বিদেশীদের কাছে বেচার মাধ্যমে নিজের নাম যশ বাড়ানোর মহা কারিগর নোবেল বিজয়ী। তিনি এসে বললেন তার নিয়োগ কর্তা হল তরুণেরা।
 
কিন্তু এরা কারা? কেউ কি ৫ই আগস্টের আগে চিনতেন তাদের? একজন ডাক্তার হন স্কুল, কলেজ, মেডিকেল, ট্রেইনিং, অভিজ্ঞতার পর মানুষ তাকে চিনেন, জানেন এবং তার কাছে নিজের শরীরের ভার দেন। একজন খেলোয়াড় বিভিন্ন স্তর পার হয়ে পরিচিতি পান। একজন রাজনীতিবিদও নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে মানুষের আস্থা অর্জন করেন এবং মানুষের কথা বলার অধিকার অর্জন করেন। কিন্তু তথাকথিত জুলাই/আগস্ট বিপ্লবের নায়কেরা কোত্থেকে এলো? এরা কারা? এদের কি কেউ চিনত? এরা তো মনে হচ্ছে কোন নিষিদ্ধ এলাকা থেকে উঠে এসেছে! আমরা ট্রান্সপারেন্সির কথা বলি। এদের সেই পরিচ্ছন্নতা কোথায়? এদের কি কোন ইতিহাস আছে কোন রাজনীতির, সমাজের কাজ করার? এদের আগমন কি সম্পুর্ন অপরিচ্ছন্ন পদ্ধতিতে নয়? আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি, আর এরা কোন গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ? কোন সাহসে এবং কোন ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এরা আমাদের সংবিধান, ইতিহাস পরিবর্তনের কথা বলে? আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজের চোখে কি পট্টি লাগিয়ে দেয়া হয়েছে, বিচার বিশ্লেষনে কি ধুলো জন্মেছে, নাকি যা লেখাপড়া শিখেছিলেন সেগুলি বাক্সে বন্দি করে রেখেছেন?  
 
রবীন্দ্রনাথের “অনেক কথা যাও যে বলে কোন কথা না বলে,” এই কথাটির মর্মার্থ বোঝা যায় আমাদের সুশীল সমাজ বা তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের বয়ান শুনলে। তাদের বাংলাদেশের উপর সকল পাণ্ডিত্য শেষ হয় অনেক ভাল ভাল উপদেশের মাধ্যমে যার কিছুই বোঝা যাবে না, অথবা যা বলবে তা প্রমাণ করার কোন দরকার আছে বলে মনে করেন না। আমাদের অনেক বুদ্ধিজীবী আছেন যাদের কাজ হল দেশের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে বা গেছে এই তত্বের উপর ভিত্তি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করা। এদের কাজ হল বিদেশিরা “যাহা যাহা বলিবে আমরা তাহা তাহা করিব” এই মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে দিনের কাজ শুরু করা। এদের পালের গোদা ছিলেন নোবেলজয়ী ইউনুস। যিনি মাথায় একটি ঝুলি নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন এবং এই ঝুলিতে থাকত একটাই পণ্য- বাংলাদেশের দারিদ্র্য। এই দারিদ্র তিনি “মিউজিয়ামে পাঠাবেন” এই কথা বলে পশ্চিমা বিশ্বের নজর কেড়েছেন, নোবেল পেয়েছেন। তার সাথে আরও অনেকে যোগ দিয়েছেন। এদের সবাই হলেন আমাদের এনজিও সমাজের নামী দামী ব্যক্তি। আশির দশক হতে তাদের ব্যবসা ভালই চলছিল। এদের ব্যবসার মোলিক পণ্য হল- বাংলাদেশের দেশের মানুষের দারিদ্র, বাংলাদেশের দুর্যোগ, বাংলাদেশের পরিবেশ, বাংলাদেশের গনতন্র, আর বাংলাদেশের দুর্নীতি।

ইতোমধ্যে দেশের মানুষ বুঝে গিয়েছিল এদের দ্বারা কিছু হবে না। যার কারনে এদের ব্যবসায় ভাটা পড়তে শুরু করে। গরিবের মহাজন তো এই জন্য আগে ভাগেই শুরু করেছিলেন তার সুদের ব্যবসার পরিবর্তে সামাজিক ব্যবসা। এমনিতেই এইসব তথাকথিত সুশীলেরা নতুনভাবে কিভাবে তাদের বাণিজ্য শুরু করবেন এই চিন্তায় ছিলেন, এর মধ্যে কোত্থেকে যুক্ত হয়েছে আরেক দুশমন- শেখ হাসিনা। শেখের বেটি কোত্থেকে এসে এদের দুর্গে হামলা চালিয়ে এদের আধিপত্যের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে দেশের উন্নতি করা শুরু করে দিয়েছেন। তিনি এনজিওদের বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য করতে অসুবিধা কমিয়ে দিয়েছেন। সরকারী চাকুরীজীবীদের যেখানে সংসার চালাতে নুন আনতে পান্তা ফুরোত, তাদের বেতন ভাতা বাড়িয়ে তাদের জীবনের মান উন্নত করেছেন। সরকারী কর্মচারীদের কাজ করতে উৎসাহ দেয়ার জন্য আমলাতন্ত্রের সাধারণ পদ্ধতি ভেঙ্গে তাদের ইনভেশনের মাধ্যমে কাজ করার সাহস দিয়েছে। তাদের ফেলোশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিদেশের নামী দামি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স/পিএইচডি প্রোগ্রামে পাঠিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করলেন। আর তাতে সরকারী কর্মচারীরাও কাজকর্ম বিপুল উৎসাহে করতে থাকল। আর বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসুচী নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের স্বস্তি আনছিলেন ধীরে ধীরে। এক দিকে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে, অন্য দিকে একটি দক্ষ আমলাতন্ত্র নির্মান করে দেশের শাসন ব্যবস্থা সুসংহত করছিলেন। এইটা কি আর সহ্য করা যায়? ব্যস শুরু হয়ে গেল তাদের গান- এমন কথা বলা শুরু করেছে যাতে অনেক কথা বলবে কিন্তু কিছুই না বলে। কিন্তু শেষে এসে বিষ ঢেলে দেবে আর মানুষ মনে করবে এটাই বুঝি সঠিক!
 
এবার উদাহরণ দেই। এই যে আমাদের সুশীলেরা চলত বাংলাদেশের দারিদ্র বেচে, এদের মাথায় আসমান ভেঙ্গে পরেছে যখন দেখল তাদের ব্যবসার বারোটা বেজে যাচ্ছে। কিভাবে? শেখ হাসিনা ২০০৯ সনে ক্ষমতায় আসার আগে দেশের দরিদ্রের হার ছিল ৪১ শতাংশের বেশী, আর ২০২২ সনে এই হার তিনি নামিয়েছিলেন ১৮.৭ শতাংশে। অতি দরিদ্রের হার ২৫ শতাংশ হতে ৫.৬ শতাংশে নামিয়ে ছিলেন। এটা তো অন্যায়, মহা অন্যায়!! এই পাপের শাস্তি হিসেবে শুরু হয়েছিল আমাদের সুশীলদের প্রচারণা। বাংলাদেশে যাই হয়েছে সেখানেই দুর্নীতি। এখনতো যুগ হল প্রচারণার, বিভিন্ন মিডিয়া (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক) আর এর সাথে যোগ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এই সব জায়গায় নিয়মিতভাবে প্রচারণা চলতে থাকল দেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে রাজনীতিবিদেরা। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০০০ সনের পর এ পর্যন্ত ৩৩ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র সীমা অতিক্রম করেছে। এদের মুখে কি কখনো শোনা গেছে বাংলাদেশের এই সাফল্যের কথা? এই কথা মুখে আনা মানে তো পাপ, এই কথা বললে তাদের ব্যবসা লাঠে উঠবে!!
 
আরও সমস্যা হচ্ছে এই সব ঘটেছে রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে। সুশীলের লেবাসে কি চমৎকার একটি জীবন যাপন করত! টাকা পেত বিদেশীদের কাছ থেকে, বিদেশীদের কাছ থেকে পেত মেডেল, এওয়ার্ড, বিদেশে গিয়ে রেড ওয়াইন খেয়ে বলতাম কিভাবে এই দেশের মৃত্যু ঠেকানো যায়, কিন্তু এই রাজনীতিবিদ হারামিরা এসে আমাদের ব্যবসার বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে!! নেহি কেভি নেহি!! এই জন্য প্রয়োজনে উগ্রবাদীদের সাথে হাত মেলাবো, তবুও আমার ব্যবসা ছাড়ব না। আর এর জন্য সকল প্রকারের অপপ্রচার শুরু করা হয়েছে- মিডিয়াতে, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে যাদের কাজ ছিল শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার করা।
 
শেখ হাসিনা তার সরকার পরিচালনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বাজার অর্থনীতিকে মৌলিক পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। যার জন্য তাঁর সরকার প্রাধান্য দিয়েছেন ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের। মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য করার সুযোগ হয়েছে, মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। একজন ব্যবসায়ী সফলভাবে ব্যবসা করলে তিনি তো লাভই করবেন। আর এটা হল আমাদের সুশীলদের কাছে পাপ। তাদের দাবী অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে টাকা উপার্জন করেছেন সেটা হল সরকারের সাথে মিলেমিশে দুর্নীতি করে শত কোটি টাকা লুটপাট আর বিদেশে পাচার। এত লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলে দেশের এই যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সেটা হল কিভাবে? শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় আসলেন তখন বাংলাদেশের মাথা পিছু আয় ছিল ৬৩০ ডলার মত, আরে তিনি যখন দেশ ত্যাগ করলেন তখন দেশের মাথা পিছু আয় ২৫২৯ ডলার। এই জন্য আমাদের সুশীলেরা আবার লেগে গেলেন প্রমাণ করতে যে হাসিনার আমলে যাই হয়েছে সেখানে তথ্য ভুল আছে। আবার রিপোর্টে ব্যাখ্যা করা হয় নাই সরকারের তথ্যের মধ্যে কোথায় এবং কিভাবে ভুল আছে।        
 
সাধারণত একটি শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন হয় একটি শক্তিশালী কৃষি অর্থনীতি। আর শেখ হাসিনা করেছিলেন ঠিক তাই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রভাগে ছিল কৃষি, যার ফলে বাংলাদেশের গ্রামের চেহারা বদলে গিয়েছিল। তিনি বাংলাদেশের গ্রামের মানুষের উন্নতির জন্য ঘোষণা দিয়েছিলেন “দেশের কোন মানুষ ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না”। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের মানুষ এখন ঘর আলোকিত করে ইলেকট্রিক বাতি জ্বালিয়ে। ঘরে ঘরে চলে টেলিভিশন, ফ্রিজ, এমন কি এয়ারকন্ডিশনার। তাতে দেশের অর্থনীতির চেহারা বদল হচ্ছিল সকল শ্রেণীর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে। বাংলাদেশের সুশীলেরা নতুন একটা কথা বলা শুরু করেছে, আর তাহল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও মানুষের মধ্যে বৈষম্য বেড়েছে। এইটা কিন্তু মোটেই ঠিক নয়। একটি দেশের আয়ের বৈষম্য বিচার করা হয় জিনি (Gini Coefficient) এর মাধ্যমে। বাংলাদেশের জিনি ২০০০ সনে ছিল ৩৩.৪ এবং ২০২২ সনেও তা ছিল ৩৩.৪। এই তথ্য বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য ভাণ্ডারে খোঁজ নিলেই জানা যাবে। আমাদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই যে প্রতিনিয়ত মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দেশের মানুষকে প্রতারিত করছে তাদের বিচার কি আমরা হাশরের ময়দানের জন্য রেখে দেব?
 
অন্যদিকে দেশের সামাজিক, অর্থনীতি ও রাস্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় একটি শক্তিশালী ও পেশাদার আমলাতন্ত্র। এটাকে বিবেচনায় নিয়ে শেখ হাসিনা যখন একটি শক্তিশালী ও পেশাদার আমলাতন্ত্র তৈরী করেছেন তখন সেটার বারটা বাজানোর জন্য এরা শুরু করল দলীয়করণের অভিযোগ আর দুর্নীতির অভিযোগ। মহাজনের সরকার এসেই বন্ধ করে দিলেন আমলাদের উন্নত প্রশিক্ষণের সকল প্রোগ্রাম, বন্ধ করে দিলেন সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসুচী, বন্ধ করে দিলেন টিসিবির মাধ্যমে মধ্যবিত্তদের কর্মসুচী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বানিয়ে রেখেছেন চাকর বাকরের মত করে। দেশের মানুষের পেটে ভাত নেই, অথচ তারা আছেন পুলিশের পোশাক বদলে। বাচ্চা কাচ্চাদের হাতে দেশ তুলে দিয়ে আমাদের সুশীলেরা দেশের কি ভাল চাচ্ছেন সেটা বোঝাই দায়। এর যে ভাষায় কথা বলে, এইটা কোন ভদ্রতার নিদর্শন তা বুঝার ক্ষমতা আমাদের নেই। গণতন্ত্রের কথা বলা হয়, আর ১৬৮ জন সাংবাদিকের এক্রেডিশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। ৮৩ জন সাংবাদিকের প্রেস ক্লাবের সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে। স্বৈরাচারী হাসিনার আমলে কি এই ধরনের কোন কাজ হয়েছে? আবার রবীন্দ্রনাথের দ্বারস্থ হতে হয়। তিনি যেমন বলেছিলেন, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিলেন তিনি মরেন নাই, ঠিক তেমনিভাবেই বলতে হয়ে হাসিনা দেশ ত্যাগ করে প্রমাণ করিলেন তিনি কি ছিলেন এবং দেশের জন্য কি করেছেন!! আর একটা কথা শেখ হাসিনা বার বার বলতেন আর আমরা বিরক্ত হতাম। তা হল আমাদের সুশীল সমাজের দুরভিসন্ধির কথা তিনি আমদের সাবধান করতেন, আর এখন আমরা তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
লেখক- দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাথে কাজ করেছন এমন একজন সাবেক সচিব

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ