বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য একটি কেবিন দীর্ঘ ১৮ মাস বরাদ্দ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ সময়ে কেবিনটি অন্য কোনো রোগীর জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন চিকিৎসক ও লেখক ডা. আব্দুন নূর তুষার। নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যখন গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য হাসপাতালের কেবিন ও সিসিইউ শয্যার সংকট রয়েছে, তখন একজন ব্যক্তির জন্য একটি কেবিন এত দীর্ঘ সময় খালি রেখে দেওয়ার যৌক্তিকতা কী?
ডা. তুষারের দাবি, গড়ে একজন রোগী যদি এক সপ্তাহ করে ওই কেবিনে চিকিৎসা নিতেন, তাহলে ১৮ মাসে প্রায় ৭৮ জন রোগী সেখানে চিকিৎসার সুযোগ পেতে পারতেন। তাঁর অভিযোগ, কেবিনটি খালি পড়ে থাকায় প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক সংকটাপন্ন রোগী সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকি কেবিন না পাওয়ার কারণে গুরুতর রোগীদের কেউ কেউ ফিরে গেছেন এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট রোগীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সিসিইউ ইনচার্জের রেজিস্টার ও কেবিন বরাদ্দের নথি পরীক্ষা করলেই বিষয়টি সহজেই যাচাই করা সম্ভব বলে ডা. তুষার দাবি করেছেন। কেবিনটি সত্যিই ১৮ মাস ধরে রোগীশূন্য ছিল কি না, কার নির্দেশে সেটি সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল এবং এর পেছনে কী চিকিৎসাগত বা প্রশাসনিক কারণ ছিল এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশের মাধ্যমে।
ডা. তুষার তাঁর পোস্টে তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তা সাঈদুর রহমানের নামও উল্লেখ করে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, হাম টিকাদান, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাতের কর্মসূচি এবং বিভিন্ন অপারেশন প্ল্যান সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গেও সাঈদুর রহমানের ভূমিকা ছিল। এসব অভিযোগের বিষয়ে অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে হাম টিকা সরবরাহ ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি নিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে পরবর্তী জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা জরুরি।
তবে সিসিইউ কেবিনের অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবায় সম্পদের ব্যবহার, রোগীর অধিকার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-সুবিধা যদি দীর্ঘ ১৮ মাস ব্যবহার না করে রাখা হয়ে থাকে, তাহলে সেই সময়ে কতজন রোগী চিকিৎসার সুযোগ হারিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিকভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটিও তদন্তের বিষয়।
