বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময় ব্যবহৃত সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে তাঁর জন্মতারিখে ভিন্নতা পাওয়ায় এ বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
২০২১ সালে খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি হাইকোর্টে দাখিল করা হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। আদালতে দাখিল করা ছয়টি সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে ১৯৪৬ সালের ৮ মে, ১৫ আগস্ট ও ৫ সেপ্টেম্বর এই তিনটি তারিখের উল্লেখ পাওয়া যায়।
এর আগে হাইকোর্টে দাখিল করা রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর পরীক্ষার নথিতে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬, ২০০১ সালের মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে ৫ আগস্ট ১৯৪৬, বিবাহ নিবন্ধনে ৪ আগস্ট ১৯৪৪ এবং ২০২১ সালের একটি করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে ৮ মে ১৯৪৬ জন্মতারিখ উল্লেখ থাকার কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ১৫ আগস্ট জন্মদিন হিসেবে পালন করেছেন।
এই ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের কারণে প্রশ্ন উঠেছে খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মতারিখ আসলে কোনটি? ২০২১ সালে এ বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানিও হয় এবং বিভিন্ন নথি আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
১৫ আগস্ট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসেবে ১৫ আগস্ট পালন করা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ ধরনের বিতর্ক রয়েছে। কারণ, একই দিন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য হত্যাকাণ্ডের স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়ে আসছিল। ফলে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, শোকের এই দিনে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।কেউ কেউ এমনও দাবি করেন যে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে সামনে রেখে ১৫ আগস্ট জন্মদিন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, বিভিন্ন নথিতে জন্মতারিখের ভিন্নতা এবং ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপ দুই কারণেই খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হয়ে রয়েছে।
