তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজারে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় জনতা। সোমবার সন্ধ্যার পর সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কোনো সময়সূচি জানানো হচ্ছে না এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ সময় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন ১২টি উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট। ফলে বিভিন্ন এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
গ্রাহকদের অভিযোগ, শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতের প্রথম ভাগেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
জাউয়াবাজারের ব্যবসায়ী জোসেফ আহমেদ বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এর মধ্যে প্রচণ্ড গরম পড়েছে। এই তীব্র গরমের মধ্যেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ চরম কষ্টে পড়েছেন।
ছাতক উপজেলার কৈতক গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, গরমের দিনে এত লোডশেডিংয়ে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত এর স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তিনি।
তাহিরপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ হাসান বলেন, তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে সহজে আসে না। দিনে ও রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ চরম কষ্টে আছেন।
ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, জাউয়াবাজার এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) তাপস কুমার পাইন বলেন, লোডশেডিং এখন জাতীয় সমস্যা। চাহিদার তুলনায় তারা প্রায় ৪০ শতাংশের কম বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। এই সরবরাহ দিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। সরকার পরিস্থিতি সমাধানে চেষ্টা করছে এবং শিগগিরই সংকটের সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ন্যাশনিক্স/এলকে
