অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

অবশ্যই পরুন

সারাদেশে তীব্র লোডশেডিং এবং সেই সঙ্গে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের জোড়া ধাক্কায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তীব্র গরমের মাঝে একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতা, অন্যদিকে মাস শেষে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভুতুড়ে বিল এই দুই সংকটে দেশের সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকাগুলোতে এই সমস্যা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকায় তীব্র লোডশেডিং 

পাওয়ার গ্রিড ও বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার তুলনায় দেশের আটটি বিভাগের মফস্বল ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, মুন্সীগঞ্জ, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশালের বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। তীব্র গরমে দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।এছাড়া সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।

গ্রাহকদের মরণফাঁদ: ভুতুড়ে বিলের আতঙ্ক

এই চরম বিদ্যুৎ সংকটের মাঝেই সাধারণ মানুষের জন্য নতুন এক আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্বাভাবিক ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল। ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো ও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা মাসের শেষে বিল হাতে পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। 

গ্রাহকদের অভিযোগ, যেখানে দিনের সিংহভাগ সময় বিদ্যুৎই থাকে না, সেখানে বিল কমার বদলে আগের মাসের তুলনায় প্রায় দেড় থেকে দ্বিগুণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি বিল আসছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সরেজমিনে মিটার রিডিং না নিয়ে অফিসে বসেই কাল্পনিক বিল তৈরি করছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোর এই খামখেয়ালিপনার কারণে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ