খুলনার কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মহসিন রেজার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে সালাউদ্দিন আম্মারের নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও বিবরণ প্রকাশ করেছেন এক স্থানীয় নারী।
প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ৫ই আগস্টের ঘটনার তিন মাস আগে মহসিন রেজার হার্ট অপারেশন হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একাধিক ব্যক্তি তাকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি বাড়ি ছাড়েননি। তিনি বলেছিলেন, “আমি কারও ক্ষতি করিনি, আমার কোনো শত্রু নেই, তাই আমি বাড়ি ছেড়ে যাব না।”
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত সালাউদ্দিন আম্মার তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মহসিন রেজার আত্মরক্ষার্থে রাখা নিজস্ব লাইসেন্সকৃত বন্দুকটি ছিনিয়ে নেয় এবং সেই অস্ত্র দিয়েই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেষ মুহূর্তে তিনি একটু পানি পানের আকুতি জানালে, তাকে পানির পরিবর্তে পেট্রোল পান করানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
আরও জানা যায়, পরবর্তীতে পুরো শরীরে পেট্রোল ঢেলে কম্বল পেঁচিয়ে তাকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছিনতাইকৃত অস্ত্রটি কাঁধে নিয়ে সালাউদ্দিন আম্মার কয়রা বাজারের একটি দোকানে মহড়া দেয় ও ছবি তোলে, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার এই লোমহর্ষক বিবরণ ও ছবি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন সচেতন মহল।
