বরিশালে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে অগ্রণী আবাসন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর এবং জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর সদর রোডে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার রাতে ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন।
ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে আব্দুল আজিজের কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং জোর করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সময় তার ডাকে আরেক ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাইরে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে চেক ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের ছবি তোলা হয়।
আব্দুল আজিজ দাবি করেন, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগের বিপরীতে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো পাওনা নেই বলে অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেন। ২৭ জুন সন্ধ্যায় কার্যালয়ে এসে তাকে মারধর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং সাদা দুটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরই ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হয়েছিল, ফলে চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, ঘটনাস্থলে যারা ছিলেন তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তার দাবি, আব্দুল আজিজ পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরিচালকদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আব্দুল আজিজ আদালতে মামলা করার বিষয়টি থানাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের আদেশ থানায় পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
