চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ অস্ত্রের লুকানো বাজার। গোপন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, টাকা দিলেই সহজেই এসব জায়গা থেকে কেনা যাচ্ছে দেশীয় তৈরি অস্ত্র। জেলার পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলে তৈরি হচ্ছে এলজি, পাইপগান, ওয়ান শ্যুটারগান ও একনলা বন্দুকসহ নানা ধরনের অস্ত্র।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকায় এই অবৈধ অস্ত্র উৎপাদন চলছে। পাশাপাশি ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচার হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে জেলায় প্রবেশ করছে।
গত বছরের জুলাই মাসের আন্দোলনে যেসব অস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগ এখনো উদ্ধার হয়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যা বেড়েছে, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হতে পারে। ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে তা নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
তবে পুলিশ ও র্যাব জানিয়েছে, তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর এলাকায় ১৪৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সম্প্রতি হাটহাজারীতে আবদুল হাকিম নামের এক ব্যক্তিকে গাড়ির ভেতর গুলি করে হত্যা করা হয়, যেখানে ২২টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত ও ১৩ জন আহত হন। এছাড়া নগরীর বাদুরতলা, সদরঘাট, বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় ১৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার বেশিরভাগেই দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অস্ত্র স্থানীয়ভাবে তৈরি এবং ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. রাসেল বলেন, “আমাদের অভিযানে ধরা পড়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বেশিরভাগ অস্ত্র স্থানীয়ভাবে তৈরি হচ্ছে বিশেষ করে রাঙ্গুনিয়া, মহেশখালী ও কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকায়।”
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ.আর.এম. মোজাফফর হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির খবর আমরা প্রায়ই পাই। তথ্য পেলেই অভিযান চালানো হয়।”
সম্প্রতি পুলিশ চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম বুইশ্যাকে ধরতে অভিযানে নামে। তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার ও ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বুইশ্যা নিজে পালিয়ে যায়। পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানার যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
