দেশে চলমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতনের আন্দোলনকে আরও গতিশীল ও চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ শর্তসাপেক্ষে সকল বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ছাত্রলীগের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর ২০২৫) রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানানো যাচ্ছে যে সার্বিক আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নিয়ম পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে না এই শর্তে ২০ ডিসেম্বর ২০২২ থেকে অদ্যাবধি গৃহীত সকল বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন মেটানোর পদক্ষেপ নয়, বরং এটি ছাত্রলীগের নতুন রাজনৈতিক কৌশল। সংগঠনটি অভ্যন্তরীণ ঐক্য পুনর্গঠনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও সংগঠিত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে অনেকেই মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তাদের ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ছাত্রলীগ আন্দোলনের গতি ও শক্তি উভয়ই বাড়াতে চায়।
ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতন। এই লক্ষ্য অর্জনে সংগঠনের প্রতিটি কর্মীর শক্তি প্রয়োজন, আর আজকের সিদ্ধান্ত সেই ঐক্যেরই প্রতীক।”
এই ঘোষণার ফলে গত প্রায় তিন বছরে বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কৃত কয়েক হাজার নেতাকর্মী তাদের সাংগঠনিক পদে ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন। তৃণমূল পর্যায়ে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা একে ‘ঘরে ফেরা’র সুযোগ হিসেবে দেখছেন এবং সরকার পতনের আন্দোলনে নতুন উদ্যমে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করছেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে পরিষ্কারভাবে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সংগঠনটি এখন ঐক্যবদ্ধ শক্তি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতনের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আগামী দিনের রাজনীতিতে এই পদক্ষেপ কী প্রভাব ফেলে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।
