আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই: প্রতিটি বাধা এবং প্রতিটি ষড়যন্ত্র কাটিয়ে, আমি এই বছরই আমার দেশে ফিরে আসব।— দেশরত্ন শেখ হাসিনা

অবশ্যই পরুন

তিনি বলেন, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলারে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল, বিনিয়োগ জিডিপির ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশে পৌঁছেছিল এবং বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ পাঁচ গুণ বেড়ে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। বাংলাদেশসংবাদ

এছাড়া দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে, চরম দারিদ্র্য ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আট গুণ বেড়েছিল, শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসে, সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয় এবং নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ৪৩ দশমিক ৪৪ শতাংশে পৌঁছায়।

পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মতো প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গোপন সমঝোতার প্রশ্নই আসে না

বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে গোপন যোগাযোগের গুঞ্জন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এটি জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ছড়ানো প্রচারণা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়। এগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।

তার ভাষায়, আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না; দলটি জনগণের সমর্থন ও সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই রাজনীতি করবে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে শেখ হাসিনা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, আহমদিয়া সম্প্রদায় এবং সুফি দরগাহ-সংশ্লিষ্ট মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। মন্দির ভাঙচুর, প্রতিমা ভাঙা, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুরা কোনো ভোটব্যাংক নয়; তারা বাংলাদেশের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। তাদের ওপর হামলা দেশের স্বাধীনতার চেতনার ওপর আঘাতের শামিল।

তার মতে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, মন্দির ও উপাসনালয়ে হামলার বিচার করতে হবে এবং ধর্মের নামে উসকানি দেওয়া গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

আমার হৃদয় এখনো বাংলাদেশেই

ভারতে নির্বাসিত জীবন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বহুদিন ধরেই তার ব্যক্তিগত জীবন বলতে কিছু নেই।

তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও তার হৃদয় পড়ে আছে বাংলাদেশে যেখানে তার বাবার সমাধি, যেখানে তার পরিবারের রক্ত মিশে আছে এবং যেখানকার মানুষের জন্য তিনি সারা জীবন কাজ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে দূরে থেকেও প্রতিদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, দলের নেতাকর্মীদের খোঁজ রাখেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের সামনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে শেখ হাসিনা বলেন, আমার শক্তি বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং জাতির পিতার আদর্শ। সেই শক্তি নিয়েই আমি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে, আওয়ামী লীগও জনগণের শক্তিতেই আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আমি শেষ দিন পর্যন্ত সেই সংগ্রামের সঙ্গেই থাকব।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ