আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী

অবশ্যই পরুন

আজ ২৬ জুন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তান রুমীকে হারানোর পর ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় সংগ্রামে রূপ দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

১৯২৯ সালের ৩ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুরে জন্মগ্রহণ করেন জাহানারা ইমাম। তাঁর বাবা সৈয়দ আবদুল আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মা সৈয়দা হামিদা বেগম। বাবার চাকরির কারণে শৈশবে বিভিন্ন স্থানে পড়াশোনা করেন তিনি। পরে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনের শুরু শিক্ষকতা দিয়ে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর দেশে ফিরে আবারও শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বড় ছেলে রুমী শহীদ হন। একই সময়ে অসুস্থ স্বামীও মারা যান। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে ‘শহীদ জননী’ হিসেবে সম্মানিত করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অভিজ্ঞতা ও দিনলিপির ভিত্তিতে লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলা সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া তিনি আরও বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি সক্রিয় আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৯২ সালে ঘাতক-দালাল নির্মূল আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় নিয়ে আসেন।

জীবনের শেষদিকে ক্যানসারে আক্রান্ত হন জাহানারা ইমাম। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁর মরদেহ দেশে এনে ঢাকায় দাফন করা হয়।

মৃত্যুর বহু বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ, সাহিত্যচর্চা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ