সেন্ট মার্টিন ইস্যুতে শেখ হাসিনার বক্তব্যই কি সত্যি হলো? প্রশ্ন মাসুদ কামালের

অবশ্যই পরুন

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নীরবতা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেটির মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

সম্প্রতি এক আলোচনায় মাসুদ কামাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হলেও সরকার কিংবা বিরোধী দল প্রকাশ্যে তেমন কোনো বক্তব্য দিচ্ছে না। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক তথ্যের সাধারণ নিরাপত্তা চুক্তি (GSOMIA) এবং অধিগ্রহণ ও পারস্পরিক সেবা চুক্তি (ACSA)। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মার্কিন সামরিক জাহাজ ও বিমান বাংলাদেশের বন্দর ও ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য।

মাসুদ কামালের মতে, এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিশেষ করে ভারত ও চীনের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, অতীতে অন্য কোনো দেশের জন্য একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হলে দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতো।

আলোচনায় তিনি শেখ হাসিনার পূর্বের একটি বক্তব্যও উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা একসময় দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও আশপাশের এলাকা সামরিক ব্যবহারের জন্য চেয়েছিল এবং তাতে সম্মতি না দিলে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে। মাসুদ কামাল বলেন, পরবর্তীতে শেখ হাসিনার ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার ঘটনায় অনেকে সেই বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল খুঁজছেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার পতনের পেছনে অপশাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হওয়া, দুর্নীতির অভিযোগসহ নানা অভ্যন্তরীণ কারণও ছিল।

এদিকে লেখক ও চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহারর বক্তব্যও আলোচনায় তুলে ধরেন মাসুদ কামাল। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ থাকতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ