ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগবঞ্চিত ১১ কর্মী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব নেয় ড্রিন্স সার্ভিসেস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসেনের যোগসাজশে নিয়োগে অনিয়ম করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগকারী কর্মীদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তারা বিভিন্ন পদে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে নিয়োগ পান। প্রথম চার মাস বেতন পেলেও পরবর্তী ১০ মাস তারা বেতন ছাড়াই কাজ করেন। তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিলে চাকরি নবায়ন করা হবে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নতুন প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নেওয়ার পর ১১ জনের মধ্যে মাত্র দুইজনকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি নয়জনকে বাদ দেওয়া হয়। চাকরি নবায়নের কাগজপত্র ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে সম্পন্ন করার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জনপ্রতি ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
নিয়োগবঞ্চিত বাবুর্চি মাহমুদুল হাসান সম্রাট বলেন, তারা ১৪ মাস কাজ করলেও মাত্র চার মাসের বেতন পেয়েছেন। সেই বেতন থেকেও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা কেটে রাখা হয়েছে। পরে চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তাদের বাদ দিয়ে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ল্যাব সহকারী মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগ, টাকা দিতে না পারায় আগের কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজনও রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আত্মীয় সোমা আক্তার নতুন ল্যাব সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি আত্মীয়তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ড্রিন্স সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, নিয়োগে তার পছন্দের কাউকে নেওয়া হয়নি এবং পুরো বিষয়টি সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসেন বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তার কোনো ভূমিকা নেই। সব কার্যক্রম জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সাল আহমেদ বলেন, তাদের কার্যালয় শুধু টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। নিয়োগ কার্যক্রম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেছে। পরে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, নিয়োগ নিয়ে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিয়োগবঞ্চিতদের দাবি, তারা ১০ মাস নিয়মিত হাজিরা দিয়ে কাজ করলেও এখন হাজিরা খাতা গোপন করা হয়েছে এবং বকেয়া বেতনও পরিশোধ করা হয়নি।
