শরীয়তপুর জেলা শহরের চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে গুম করার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। নিহত ব্যক্তির নাম জিয়া সরদার। এই লোমহর্ষক ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী আসমা আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। নিহতের অবশিষ্টাংশ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার চেষ্টাকালে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা আসমা আক্তারের সঙ্গে শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। প্রায় আট বছর আগে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যা ছিল তাদের দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। গত বছর জিয়া সরদার স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার পর তারা চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আসমা জানান, গত ১২ মে রাতে পারিবারিক কলহের জেরে তাদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে জিয়ার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর অপরাধ ঢাকতে আসমা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে লাশটি কয়েক টুকরো করেন এবং হাড় ও মাংস আলাদা করে একটি ড্রামে ভরে রাখেন।
হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আসমা একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে হাত ও পা নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীরে এবং মাথা ও হাড় ভর্তি বস্তা আটং এলাকার বৃক্ষতলার একটি পুকুরে ফেলে দেন। এরপর অবশিষ্ট মাংসের অংশ নিয়ে আসমা পালং এলাকায় তার আগের ভাড়া বাসার এক বাসিন্দার ফ্রিজে রাখতে যান। সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আসমাকে আটক করে এবং তল্লাশি চালিয়ে লাশের অংশবিশেষ উদ্ধার করে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার পুকুর থেকে নিহতের মাথা ও হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নড়িয়া থানা পুলিশ নদী তীর থেকে হাত-পা উদ্ধার করেছে। এই নৃশংস ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ন্যাশনিক্স/এলকে
