বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে শেখ হাসিনার শোক: ‘দেশ হারালো এক নিবেদিতপ্রাণ জননেতাকে’

অবশ্যই পরুন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশের রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

বুধবার (১৩ মে) এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, “অর্ধ শতাব্দীর অধিক সময় ধরে রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনসেবায় নিবেদিত এক মহান নেতার বিদায়ে শোকাহত পুরো জাতি। বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করলো।”

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচরদের অন্যতম। ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে সারাজীবন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভিত শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেক্টর-১ এর অধীনে সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সম্মুখযুদ্ধে সাহসিকতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দেন।

স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া স্থানীয় সরকার, গৃহায়ণ ও গণপূর্তসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

শোকবার্তায় শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, “অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে ইউনুস সরকার প্রবীণ এই মুক্তিযোদ্ধা নেতাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগতে থাকা এই নেতাকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ আট মাস কারাবন্দি রাখা হয়।”

তিনি বলেন, কারাবাস চলাকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়নি। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। জামিন পাওয়ার সময়ও তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

শেখ হাসিনা বলেন, “যে মানুষটি নিজের জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার পরবর্তী পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন, জীবনের শেষ সময়ে সেই মানুষটিকে ন্যূনতম মানবিক সহায়তা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন একজন দূরদর্শী, সৎ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ। দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করা, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অভিজ্ঞতা এবং অবদান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

শোকবার্তার শেষে শেখ হাসিনা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, “দেশ, জনগণ ও আওয়ামী লীগের জন্য তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ