নেত্রকোনায় ১১ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সাভারের আশুলিয়ায় ঘটলো আরও এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। সাত বছরের এক অবুঝ শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মোহাম্মদ ইলিয়াস নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাভারের আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকার ‘রাওজাতুল কুরআন আধুনিক নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসা’য় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি তার চাচার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। গত বুধবার (৬ মে) বিকেলে মাদরাসা থেকে ফেরার পর শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে কান্নাকাটি শুরু করলে স্বজনরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি তার শিক্ষকের লালসার কথা প্রকাশ করে দেয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বৃহস্পতিবার দুপুরে আশুলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ ইলিয়াসকে আটক করে। পরে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াস ময়মনসিংহের পূর্বতলা থানার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন ও যৌন হয়রানির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অভিভাবকরা যে পরম বিশ্বাসে সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য পাঠান, সেই পবিত্র বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ শিশুদের জীবন ধ্বংস করছে। সচেতন মহলের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ‘সম্মান’ রক্ষার দোহাই দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত নজরদারি বাধ্যতামূলক করা জরুরি। সেই সাথে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আশুলিয়ার এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, অপরাধীর কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় নেই; তাই অপরাধীকে কঠোর আইনের আওতায় আনাই এখন সময়ের দাবি।
ন্যাশনিক্স/এলকে
