সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সমালোচনামূলক স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় এক যুবকের বৃদ্ধ পিতাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে চরম উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন মামুন নামের এক ব্যক্তি। এরপর পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে বৃদ্ধ পিতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় মুরুব্বিদের জিম্মায় এই শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছেলেকে থানায় হাজির করতে হবে।
পরবর্তীতে মামুন থানায় হাজির হলে, “মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো স্ট্যাটাস দেওয়া যাবে না”—এমন মৌখিক শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি আইনের শাসনের উদাহরণ, নাকি রাজনৈতিক সমালোচনা দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার?
বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মত প্রকাশের দায় তার পরিবারের ওপর চাপানো কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে একজন বৃদ্ধ পিতাকে আটক করে ছেলেকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার ঘটনা মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সমালোচকদের মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সমালোচনার জবাব হওয়া উচিত যুক্তি ও বক্তব্যের মাধ্যমে। কিন্তু যদি সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় পুলিশি চাপ, ভয়ভীতি বা হয়রানির পথ বেছে নেওয়া হয়, তবে তা নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ ঘটনায় এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
