দক্ষিণ এশিয়ায় দাম কমছে, শীর্ষে রইল বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি

অবশ্যই পরুন

দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ যখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশ এখনো উচ্চ দামের চাপে হাঁসফাঁস করছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ—এর মধ্যে খাদ্যখাতে তা ৯ শতাংশেরও বেশি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও টাকার অবমূল্যায়ন ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে পণ্যের দাম সহজে কমছে না। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, আমদানি নির্ভরতা ও বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাবও ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যবহির্ভূত খাতে কিছুটা স্থিতি ফিরলেও শাকসবজি, মাংস, দুধজাত পণ্য ও ডিমের দাম এখনো উর্ধ্বমুখী।

অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থায় আছে। শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ১ দশমিক ৫ শতাংশে, ভারতে ২ শতাংশের ঘরে, নেপালে ৫ দশমিক ২ এবং পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সময়মতো নীতি গ্রহণ না করা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাকার মান গত কয়েক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে টাকা সরবরাহ কমানোর চেষ্টা করলেও, অন্যদিকে তারল্য ঘাটতি পূরণে নতুন টাকা ছাপানোর কারণে বাস্তব প্রভাব কম দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে ও বাজারে স্বচ্ছতা আনতে পারলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে সরকারি কর্মচারীদের সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধি ও নির্বাচনের আগে অতিরিক্ত ব্যয় আবারও দাম বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তাই এখনো বাংলাদেশেই মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি, এবং নীতিগত সমন্বয় না এলে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ