খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার প্রত্যন্ত চাইহ্লাপ্রু কার্বারি পাড়া—সেখানেই জন্ম ক্যজ মারমার। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে জীবন শুরু থেকেই ছিল কঠিন। মাত্র এক বছর বয়সে বাবার মৃত্যু হওয়ায় বাবার কোনো স্মৃতিই মনে নেই তাঁর। সময়ের সঙ্গে বুঝতে শিখেছেন, বাবাহীন একটি পরিবার টিকে থাকা কতটা কঠিন।
মা থুইম্রাসং মারমা দিনমজুর হিসেবে রাবার বাগানে কাজ করে তিন সন্তানকে বড় করার লড়াই চালিয়ে গেছেন। কখনো তিন বেলা খাবার জোটেনি, তবুও সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি। বড় বোন নিজের পড়াশোনা বন্ধ করে মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন সংসারের ভার কমাতে।
এমন প্রতিকূলতার মধ্যেই ক্যজ শিখেছেন স্বপ্ন দেখতে হলে সাহস দরকার। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে স্থানীয় কার্বারি মংখ্যইহলার সহায়তায় তাঁর জায়গা হয় মৈত্রী শিশু সদনে। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন পথচলা—নিয়মিত পড়াশোনা আর নিরাপদ পরিবেশে বড় হওয়ার সুযোগ।
পরে তিনি ম্রঃখ্যং মৈত্রী শিশু সদন বিদ্যা নিকেতন থেকে মাধ্যমিক এবং কাউখালী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। তবে এইচএসসি পাসের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির সময় যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে এক বছর পড়াশোনা থেকে দূরে থাকতে হয় তাঁকে। কঠিন সেই সময় পার করে সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরেন তিনি।
অবশেষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সুযোগ পান চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তবে নতুন করে সামনে এসেছে আরেক চ্যালেঞ্জ—অর্থ সংকট। ভর্তি ফি, থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার খরচ জোগাড় করা তাঁর পরিবারের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যজ বলেন, “বাবা না থাকলে একটি পরিবার কতটা অসহায় হয়ে যায়, আমরা তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু অর্থের অভাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।”
সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলা এই তরুণের গল্প শুধু একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বপ্ন ছোঁয়ার এক অনুপ্রেরণার গল্প।
