চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘটনাকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটি দাবি করেছে, এই পরিস্থিতির দায় বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
শনিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের প্যাডে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, যা মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৬ শতাংশ। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিতির হার ৪৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
ছাত্রলীগের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতি শুধু পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার বিষয় নয়; বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পিত ধ্বংসের বহিঃপ্রকাশ। সংগঠনটি দাবি করে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য ও সামাজিক অনিরাপত্তার কারণে বহু শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ এবং শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূলধারায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন এসব কার্যক্রমে উদাসীন থাকায় শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি।
এতে আরও বলা হয়, গত দুই বছরে শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতে হাতে পাঠ্যবই পায়নি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বেড়েছে। বিশেষ করে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
ছাত্রলীগ বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়ন বন্ধ, বাল্যবিবাহ ও দারিদ্র্যজনিত ঝরে পড়া রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চালু থাকা শিক্ষা সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পুনর্বহালের দাবি জানায়।
সংগঠনটি বলেছে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অধিকার সাংবিধানিক। কোনো শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা সামাজিক অবহেলার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে তার পরিণতি দেশের জন্য ভয়াবহ হবে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষর করেন।
