নকল করতে না পেরে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভাঙচুর, সংঘর্ষে আহত ১০

অবশ্যই পরুন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক, গভর্নিং বডির সভাপতিসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর প্রায় সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একদল পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। পরে পেছনের ফটক ভেঙে এবং দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এ সময় পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। শিক্ষকরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন এবং তারা সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। এমসিকিউ পরীক্ষার সময় কয়েকজন পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে কক্ষ পরিদর্শকরা তা প্রতিরোধ করেন। এরপর কিছু পরীক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা শেষে একদল পরীক্ষার্থী সংঘবদ্ধভাবে কলেজে হামলা চালায়। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন।

হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থীর দাবি, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল, যার প্রভাব পরীক্ষার পরিবেশে পড়ে। তাদের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ায় এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ