ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতা কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মামলা করেছেন।
ঘটনার পর ওই নারী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চারদিন চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে আছেন। ঘটনাটি ঘটে ২ এপ্রিল।
ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজন শেখ শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
বুধবার ৮ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন। ঘরটিতে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নেই, টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে। সেখানে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন তিনি।
নারীটি জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে তিনি অন্যের বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এখনো কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। সম্প্রতি সুজন শেখ তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
২ এপ্রিল সকালে সুজন শেখ তাকে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা বলে রিকশায় নিয়ে বের হন। পরে শহরের গোয়ালচামট এলাকায় একটি স্থানে নামিয়ে নতুন বাসটার্মিনালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে এনে বলা হয় সেটিই অফিস। এরপর তাকে ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ৬ এপ্রিল বাড়ি ফেরেন। পরদিন ৭ এপ্রিল ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তিনি।
ভুক্তভোগী বলেন, তিনি অফিস চেনেন না এবং অভিযুক্তের কথায় বিশ্বাস করে সেখানে গিয়েছিলেন। স্বামী না থাকায় এবং আর্থিক কষ্টে সরকারি সহায়তার আশায় তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এখন তিনি ঘটনার বিচার দাবি করছেন।
অভিযুক্ত সুজন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। ওই নারী তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং ঘটনার দিন তাকে মারধরের একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
