ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দাবি, এবার ঈদে দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বুধবার সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের নজরদারি কার্যত ব্যর্থ হওয়ায় ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঈদযাত্রায় প্রায় ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন রুটে ভাড়ার পার্থক্য উল্লেখ করে বলা হয়, ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-নাটোর রুটে সাধারণ সময়ে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার ভাড়া ঈদে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-রংপুর রুটে ৫০০ টাকার ভাড়া দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা-নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ ও ময়মনসিংহ রুটেও উল্লেখযোগ্য হারে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, অনেক বাসে আসনসংখ্যা কম দেখিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এমনকি কিছু পরিবহন কোম্পানি নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট না দিয়ে দূরবর্তী রুটের টিকিট কাটতে বাধ্য করছে যাত্রীদের, যাতে বেশি ভাড়া নেওয়া যায়।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ঈদে প্রায় ৪০ লাখ যাত্রী দূরপাল্লার বাসে যাতায়াত করবেন। তাদের কাছ থেকে গড়ে প্রতি টিকিটে প্রায় ৩৫০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে, যা মোট ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। পাশাপাশি অন্যান্য খাতে গড়ে ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়ায় আরও প্রায় ২৬ কোটি টাকা আদায় হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে বাস ও মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৪৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
