ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদ কামাল অনিক আদালতে আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিলেও পরে সেখান থেকে চলে যান। রোববার তার আইনজীবী ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ আবেদন দাখিল করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান, অনিকের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণের পাশাপাশি জামিনের আবেদনও জমা দেওয়া হয়। তবে শুনানির সময় আসামি ও তার আইনজীবী কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শুনানির কার্যক্রম এগোয়নি।
এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে কারাগারে, কয়েকজন জামিনে রয়েছেন এবং বাকিরা পলাতক বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
মামলার আসামিদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ এবং ওয়াজিবুল আলম জামিনে রয়েছেন। জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে আছেন। অন্য ২২ জন আসামি এখনও পলাতক।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের একটি অতিথি কক্ষে তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে মারধরের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তাকে মারধরের আগে ভাত খাওয়ানো হয় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটির পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ন্যাশনিক্স/এলকে
