কারা হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: অবহেলা নাকি পরিকল্পিত রাজনৈতিক নিপীড়ন?

অবশ্যই পরুন

কারাবন্দী অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহনুর আলম শান্ত (৫৫) মারা গেছেন। শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

জানা গেছে, শাহনুর আলম শান্ত দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ছিলেন। একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নেওয়া হয়, সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

পরিবার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কারাবন্দী অবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া এবং কারা-কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, গুরুতর অসুস্থ ও পঙ্গু হওয়া সত্ত্বেও তাকে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে অসুস্থ হওয়ার পরও যথাসময়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি।

নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, শান্তর মৃত্যু সেই রাজনৈতিক নিপীড়নেরই আরেকটি করুণ উদাহরণ।

স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, একজন অসুস্থ ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি ন্যূনতম মানবিক আচরণও দেখানো হয়নি। কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পরও দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফলে তার মৃত্যুর দায় সরকার, প্রশাসন ও কারা-কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে তারা মনে করেন।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বা কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ